ইরান-রুশ-তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য
সিরিয়ায় যুদ্ধ বিরতির নিশ্চয়তাদানকারী তিন দেশ ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গতকাল (রোববার) আনাতোলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামি ২২ নভেম্বর রাশিয়ার সোচি শহরে ত্রিদেশীয় প্রেসিডেন্টদের আলোচনায় বসার ব্যাপারে কথা হয়েছে। একইসঙ্গে সোচিতে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের সেনাপ্রধানরাও বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপারে তারা মত বিনিময় করবেন।
আস্তানা বৈঠকের সমঝোতার ভিত্তিতে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার ফলে সিরিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে প্রাণহানী এবং সংঘাত ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে। সিরিয়া সরকার ও প্রতিরোধকামী শক্তি যে দায়েশসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিহত করতে সক্ষম সেটা এখন দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায়।
সিরিয়ায় যুদ্ধ বিরতির নিশ্চয়তাদানকারী দেশগুলোও সিরিয়ার জনগণের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠাসহ একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠেয় তিন দেশের প্রেসিডেন্টদের আসন্ন বৈঠক সিরিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান এই প্রক্রিয়ারই আরেক ধাপ অগ্রগতি। যদিও অনেক কাঠখড় এখনো পোড়ানো বাকি রয়ে গেছে। কারণ সৌদি আরব এখনও এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার জন্য সক্রিয় রয়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিরোধ ফ্রন্টকে দুর্বল করার লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্রও শেষ হয়ে যায় নি।
আমেরিকা সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর পেছনে গত সাত বছরে ২শ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ করেছে। অথচ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে প্রতিদিনই নতুন নতুন সাফল্যের খবর আসছে। বুকামাল এবং দেইর আয-যোরে বিশাল বিজয়ের ঘটনা তারই প্রমাণ বহন করছে।
সুতরাং এ ক্ষেত্রে তেহরান, মস্কো এবং আঙ্কারার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর এই বাস্তবতার কারণেই সবার দৃষ্টি এখন সোচি বৈঠকের দিকে।#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২০