সর্বোচ্চ নেতাকে হানিয়ার চিঠি: ফিলিস্তিনের প্রকৃত সহযোগী ইরান
ফিলিস্তিন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক দফতরের প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইরানই ফিলিস্তিনের প্রকৃত সহযোগী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লেখা এক চিঠিতে তিনি একথা বলেন।
চিঠিতে তিনি কুদসসহ ফিলিস্তিনীদের সকল সমস্যার সমাধানে ইরানের অনড় অবস্থানসহ সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। হানিয়া বলেন, ইরান ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার করাসহ মুজাহিদদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কালজয়ী ভূমিকা রেখেছে। সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুসলিম বিশ্বের দিকদর্শনযন্ত্রে ইরান সবসময় কাঁটাটি ফিলিস্তিনের ওপর স্থির রেখেছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর ইমাম খোমেনি (রহ) এর দৃষ্টি বিস্মৃতপ্রায় ফিলিস্তিনের ওপর নিবদ্ধ হয়। কদসসহ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের মুক্তির বিষয়টি ইরানের নীতিতে রূপান্তরিত হয় এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। রমজানের শেষ শুক্রবারকে কুদস দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন সমস্যাকে চল্লিশ বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে জিইয়ে রেখেছেন। ফিলিস্তিনীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইরানের যে প্রকৃত আন্তরিকতা ও সহযোগিতা রয়েছে,এটা তারই প্রমাণ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও গত মঙ্গলবার ওআইসি'র আন্ত-সংসদীয় সম্মেলনে বলেছেন, "ফিলিস্তিনের ইতিহাস সমগ্র ভূখণ্ডের ইতিহাস। আর কুদস হলো ফিলিস্তিনের রাজধানী। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই"।
কুদস নিয়ে মার্কিন সাম্পতিক পদক্ষেপকে তিনি বড় রকমের ভুল বলে মন্তব্য করে বলেন: আমেরিকার ওই অপচেষ্টা কোনোদিন সফল হবে না। কুদসের সমর্থনে ইরান সরকারের দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে। এ কারণে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে উঠপড়ে লেগেছে। তারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায় বলে সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।
চিঠিতে ইসমাইল হানিয়ে আরও লিখেছেন: আমেরিকাসহ পরাজিত কিছু শাসক চায় ফিলিস্তিন ও দখলদার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধের অবসান ঘটাতে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে শত্রুতা করতে।সেইসঙ্গে শিয়া-সুন্নির ধুয়া তুলে মুসলমানদের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় বলেও হানিয়া চিঠিতে উল্লেখ করেন।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৯