ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে ইসরাইলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বাহরাইন ও আমিরাত
বাহরাইন ও আরব আমিরাতের রাজতান্ত্রিক সরকার বলেছে, আগামী ১৪ মে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের আয়োজিত মটরগাড়ি চালনার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এ দুই সরকার।
অবৈধ রাষ্ট্র ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ৭০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তেল-আবিবের অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।
ধূর্ত উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ সরকারের সহায়তায় কয়েক দশকের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী তৎপরতার পর ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ফিলিস্তিনে ইসরাইল নামের অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী চক্র। সেই অবৈধ ইসরাইলের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা-বার্ষিকী উপলক্ষে দখলদার কর্তৃপক্ষ মটর-ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র বিভাগ।
আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি সরকারসহ আরও কিছু আরব সরকার এমন সময় বর্ণবাদী ও দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে বেশ জোরালোভাবে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে যখন সন্ত্রাসী ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংস হত্যা ও অপরাধযজ্ঞ জোরদার করেছে। শুধু তা-ই নয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইসরাইল আরব ও মুসলিম জাহানের অনেক অঞ্চল জবর-দখল করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে একদল আরব সরকারের মাখামাখি ও ঘনিষ্ঠতা জোরদার খুবই লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের সংকট জোরদারে ইসরাইলি-সৌদি-বাহরাইনি ও আমিরাতি চক্রের ঘনিষ্ঠ এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই এর অন্যতম বড় প্রমাণ। অথচ ইসরাইল হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় শত্রু।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব রাজ-সরকারগুলো ইসরাইলি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার সেই সূচনালগ্ন থেকেই গোপনে তেল-আবিবকে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে নানাভাবে। এই সরকারগুলো কেবল লোক-নিন্দার ভয়েই এতদিন পর্যন্ত মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার ইসরাইলকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেয়নি।
সম্প্রতি ব্রিটেনের দৈনিক টাইমসও জানিয়েছে, রিয়াদ, মানামা ও আবুধাবি তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজ দিনকে দিন জোরদার করছে।
আরব সরকারগুলো তাদের পশ্চিমা ও ইহুদিবাদী প্রভুদের খুশি করতে মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সৌদি সরকারের উত্থাপিত কথিত আরব শান্তি-প্রস্তাবই এর বড় প্রমাণ। বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ এই প্রস্তাব পাশ্চাত্যের কথিত নয়া মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পের চেয়ে কম ধ্বংসাত্মক বা কম ষড়যন্ত্রমূলক নয় আরব ও মুসলিম জাহানের জন্য। সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব শান্তি প্রস্তাব আসলে কুদস দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করারই একটি রোড-ম্যাপ মাত্র।
ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে আরব রাজা-বাদশাহরা আসলে তাদের গদি বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখারই চেষ্টা করছেন। কারণ তারা জানে পশ্চিমা প্রভুরা মদদ দেয়া বন্ধ করলে তাদের ক্ষমতা কয়েক দিনের বেশি টিকবে না। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আরব রাজা-বাদশাহদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এ কথাটিই বলা হয়েছে! মার্কিন সরকার স্পষ্টভাবেই অগণতান্ত্রিক আরব সরকার তথা রাজা-বাদশাহদের এটা বলেছে যে অব্যাহত মার্কিন সহযোগিতা পেতে হলে ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে।
অন্যদিকে ইসরাইলও পারস্য-উপসাগরীয় আরব সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একঘরে ও কোণঠাসা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আর এভাবেই আরব রাজা-বাদশাহরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত 'শতাব্দীর সমঝোতা' বাস্তবায়নে জোর ভূমিকা রাখছে যাতে পশ্চিম এশিয়ায় ও বিশেষ করে মুসলমানদের প্রথম কেবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের আধিপত্য পাকাপোক্ত করা যায়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৪