বিশ্ব কুদস দিবস পালন: চার দশক আগের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i80053-বিশ্ব_কুদস_দিবস_পালন_চার_দশক_আগের_অবস্থান_ও_বর্তমান_পরিস্থিতি
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি মরহুম ইমাম খোমেনী রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর ৪১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ২০, ২০২০ ১৪:২০ Asia/Dhaka
  • সংগ্রামী ফিলিস্তিনিরা
    সংগ্রামী ফিলিস্তিনিরা

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি মরহুম ইমাম খোমেনী রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর ৪১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

ইমাম খোমেনী ছিলেন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এমন সময় তিনি বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ঘোষণা দেন যখন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের  মোকাবেলায় ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব দেশগুলো দুর্বল অবস্থানে ছিল। আরব দেশগুলো একের পর এক ইসরাইলের কাছে পরাজিত হচ্ছিল এবং তারা ইসরাইলের কাছে আত্মসমর্পণ করছিল। ফিলিস্তিনিরাও একা হয়ে পড়েছিল এবং তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বলতে গেলে ছিলই না।

এ অবস্থায় ইমাম খোমেনী(র.) রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ঘোষণা দেয়ায় ফিলিস্তিনিদের অনুকূলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তিনি আপোশকামী আরবদের পরিবর্তে খোদ ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভর করেন যাতে ফিলিস্তিনিরা ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায় এবং ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা পরাজিত হয়। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভর করেই ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন, ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী ও নির্ভীক প্রতিরোধ সংগঠন গড়ে উঠেছে। দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার জন্যই এসব সংগঠন গড়ে উঠেছে। প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠায় এরইমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনারা সরে যেতে বাধ্য হয়। ইসরাইলিরা এতদিন নিজেদেরকে অপরাজেয় মনে করলেও হিজবুল্লাহর হাতে তারা চরমভাবে পরাজিত হয়। ফিলিস্তিনিরা আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে বাধ্য হয় ইসরাইল। প্রতিরোধ শক্তির বিজয় ও ইসরাইলের নির্লজ্জ পরাজয় এ অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ও শত্রুর সমস্ত হিসাব নিকাশকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। গত চার দশকের তুলনায় বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আর ইসরাইলের অনুকূলে নেই। এ সাফল্যের পেছনে বিশ্ব কুদস দিবস পালন বড় ভূমিকা রেখেছে যার পেছনে ইমাম খোমেনী(র.)এর অবদান অনস্বীকার্য।

শত্রুর ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে এ পর্যন্ত সফলতা এসেছে। বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ফলে শুধু যে ফিলিস্তিন ইস্যুটি বিশ্ব মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে তাই নয় বরং এ ইস্যু আগের চেয়ে আরো বেশি উজ্জীবিত হয়েছে। বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ফলে মানবাধিকারের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের দাবিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ পাশ্চাত্য মানবাধিকারের ব্যাপারে বড় বড় কথা বললেও তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন কোনো রাখঢাক না করেই দখলদার ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে এবং তাদের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী মোহতাদি বলেছেন, 'বিশ্ব কুদস দিবস পালনে শত্রুদের তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধিতা থেকেই এর গুরুত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়।'

তাই বিশ্ব কুদস দিবস আজ মুসলমানদের সম্মান এনে দিয়েছে অন্যদিকে ইসরাইল ও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#           

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০