ইসরাইলি ধৃষ্টতার জন্য দায়ী আমেরিকার সমর্থন ও আরব দেশগুলোর নির্লজ্জ আনুগত্য
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে দখলিকৃত ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বার্তা ও প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
ইসরাইলের লিকুদ দলের প্রধান নেতানিয়াহু এবং সাদা ও নীল দলের প্রধান বেনি গান্তেয ৫০০ দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে যৌথভাবে মন্ত্রিসভা গঠনে সম্মত হওয়ার পর তরা জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেন। নেতানিয়াহু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এবং বেনি গান্তেয পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা উভয়ে সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির কাজ শুরু করা হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলের ধৃষ্টতার পেছনে মূলত আমেরিকার সমর্থন এবং রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশের নির্লজ্জ আনুগত্য দায়ী। জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে স্থায়ীভাবে দখল করার উদ্যোগ মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনারই অংশ। আরো বিস্ময়কর হচ্ছে পাশের দেশ জর্দান পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে খুব একটা সোচ্চার নয়। জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ সম্প্রতি করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা বললেও ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।
তবে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের সঙ্গে করা সমস্ত চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আশতিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে কয়েকটি আরব দেশ সফরের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
প্রকৃতপক্ষে ইসরাইলের মোকাবেলায় ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগ্রামীদের বিরোধীরা এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, তাদেরকেই মাতৃভূমি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। এ অবস্থায় ইসরাইল তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, ইউরোপের কয়েকটি দেশও ইসরাইলি ওই সিদ্ধান্তের পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে এবং জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত না করার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসরাইলকে এ বিপজ্জনক চিন্তা থেকে সরে আসা উচিত কারণ ফিলিস্তিনিরাও বিনা জবাবে ইসরাইলকে ছেড়ে দেবে না।#
পার্সটুডে/আরএইচ/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।