মার্কিন-কুয়েত মধ্যস্থতায় আরব দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক স্থাপন
পারস্য উপসাগর তীরবর্তী আরব দেশগুলোর নেতারা কাতারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করেছেন।
সৌদি আরবের আল উলা শহরে গতকাল পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসির ৪১তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কাতারের ওপর থেকে আরব দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠিয়ে নেয়া এবং পিজিসিসি'র সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের ৫ জুন থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর একযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তখন থেকে উত্তেজনা চলে আসছিল। ইরানসহ বেশ কিছু ইস্যুতে কাতারের পররাষ্ট্র নীতির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ওই দেশগুলো দোহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি স্থল ও আকাশ পথও তারা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
সম্পর্ক পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য ওই চারটি আরব দেশ কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয়। এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কাতারের আল জাজিরা টিভি চ্যানেলে ভারসাম্য আনতে হবে, ফিলিস্তিনের হামাস ও মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং ইসলামি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তবে কাতার সরকার ওই ১৩টি শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, এ ধরনের শর্ত কাতারের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং এ তা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না দোহা। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে উত্তেজনা চলে আসলেও এবং শেষ পর্যন্ত কাতারের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে অন্য আরব দেশ সম্মত হলেও তাদের দেয়া ওই সমস্ত শর্ত এখনো মেনে নেয়নি কাতার। অর্থাৎ কাতারের প্রতিরোধের কাছে ওই দেশগুলো আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ ধরণের সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং কাতারের সঙ্গে ওই দেশগুলোর সমঝোতা হল। এর আগেও এ দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিরসনের জন্য কুয়েত চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার আগ মুহূর্তে এই সমঝোতা হল। কাতার ও সৌদি আরব দুটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তাদের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন।
ইরানের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক কাসেম মোহাবআলী এ ব্যাপারে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাস পর ওই চারটি দেশের সঙ্গে কাতারের উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তার ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে ফের তাদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু সৌদি আরব এ জন্য চিন্তিত যে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর রিয়াদের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে সৌদি সরকার কাতারকে দেয়া তাদের ১৩টি শর্তের কথা ভুলে গিয়ে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হয়ে পড়ে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে ছয়টি আরব নেতাদের মধ্যে এই সম্মেলনে কেবলমাত্র কুয়েত ও কাতারের আমিররা উপস্থিত ছিলেন। আর অন্য দেশের কেবল প্রতিনিধিরা অংশ নেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬