ব্যাপক ক্ষতির মুখেও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারাই এখন পর্যন্ত সেরা
গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালো। ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে হামাসের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও শুধু যে নজিরবিহীন পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তাই নয় একইসঙ্গে বহির্বিশ্বে ইসরাইলের সমর্থক দেশগুলোও হতচকিত ও হতবিহবল হয়ে পড়েছে। তারা হতাশ হয়ে পড়েছে।
ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়ে গাজার আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবনগুলো গুড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। ইসরাইল যে কতটা বর্বর প্রকৃতির তা এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে অসম এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইসরাইলের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত না হওয়ায় তাদের পরাজয় এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্তিমত্বার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে। গাজায় ইসরাইলের নজিরবিহীন আগ্রাসন থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান ইসরাইলের বর্বর হামলার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গাজায় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ খুঁজে বের করা ও তা ধ্বংস করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া ইসরাইল আবাসিক এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে ও নিরীহ মানুষ হত্যা করে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ওপর এমনভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে তারা ইসরাইলের কথা মতো যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয় এবং পূর্ব জেরুজালেম আল কুদস শহরের ব্যাপারে তারা যেন কোনো কথা না বলে। এ কারণে ইসরাইল উন্মাদের মতো হামলা চালিয়ে গাজার সমস্ত অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং পানি, বিদ্যুত ও কৃষি সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো গুড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরাইলের এই বেপরোয়া চেহারা থেকে তাদের অক্ষমতা ও হতাশার চিহ্ন ফুটে উঠেছে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ইসরাইলের এই মারমুখী অবস্থান থেকে বোঝা যায় প্রতিপক্ষের শক্তির ব্যাপারে তারা খুবই চিন্তিত। ইসরাইল তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচারে বাধা দিলেও তাদের ভেতর থেকে বিভিন্ন উপায়ে অনেক তথ্য বাইরে বেরিয়ে আসছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা যা দাবি করছে তার চাইতে তাদের প্রাণহানি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলায় এ পর্যন্ত কয়েক শ' ইসরাইলি হতাহত হয়েছে। ফলে সেখানকার অবৈধ ইহুদি অভিবাসীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া, ইসরাইলের অনেক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিমানবন্দরগুলোও বন্ধ রয়েছে। যদিও ইসরাইল এ সংক্রান্ত খবরাখবর গোপন রাখার চেষ্টা করছে।
ইসরাইলের কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের জবাবে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে হতবিহবল ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। বহু দেশ ইসরাইলকে সমর্থন দিয়েছে এবং সেসব দেশে ইসরাইলের পতাকা উত্তোলন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তড়িঘড়ি করে ইসরাইলকে আরো ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রমাণ করেছে ইসরাইল অপরাজেয় নয়। ফিলিস্তিনি নেতারা তাদের এ সাফল্যের জন্য ইরানের প্রশংসা করেছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮