আনসারুল্লাহ'র প্রতি মার্কিন দূতের স্বীকৃতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i93742-আনসারুল্লাহ'র_প্রতি_মার্কিন_দূতের_স্বীকৃতি_নিয়ে_পরস্পরবিরোধী_বক্তব্য
ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মুহাম্মাদ আলী আল হুথি তার দেশের জনপ্রিয়  ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহ'র প্রতি ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূতের স্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ'র বৈধতা দেশটির জনগণের শক্তি ও প্রতিরোধ থেকে উদ্ভূত।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ২৫, ২০২১ ১৫:৫৩ Asia/Dhaka

ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মুহাম্মাদ আলী আল হুথি তার দেশের জনপ্রিয়  ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহ'র প্রতি ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূতের স্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ'র বৈধতা দেশটির জনগণের শক্তি ও প্রতিরোধ থেকে উদ্ভূত।

ইয়েমেন বিষয়ে মার্কিন বিশেষ দূত টিমোথি লিন্ডারকিং গতরাতে বলেছেন, ওয়াশিংটন হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে ইয়েমেনের একটি বৈধ পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।  

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন একটি গণ-ভিত্তিক আন্দোলন। জনগণের কাছ থেকেই এ আন্দোলন বৈধতা নিয়েছে। এ আন্দোলন ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনের আলী আবদুল্লাহ সালেহ'র সরকারের সঙ্গে ছয় বছর পর্যন্ত যুদ্ধ করেছে। সালেহ'র বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান শুরু হলে ওই যুদ্ধ শেষ হয়। আনসারুল্লাহর প্রতি যে ব্যাপক গণ-সমর্থন রয়েছে তা একটি সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মোকাবেলায় ব্যাপক গণ-প্রতিরোধ থেকেই স্পষ্ট।

২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও আনসারুল্লাহ ইয়েমেনি জনগণের পক্ষ নেয়। তবে ওই গণ-অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্বে ছিল না আনসারুল্লাহ। এই গণঅভ্যুত্থানকে বিপথগামী ও ব্যর্থ করার জন্য যখন মার্কিন ষড়যন্ত্রে শরিক হয় পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-ভুক্ত কয়েকটি আরব রাজতান্ত্রিক সরকার তখন ২০১৪ সালের গ্রীষ্মকালে আনসারুল্লাহ মনসুর হাদির স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে গণ-প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেয়া শুরু করে। আনসারুল্লাহ সে বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। মনসুর হাদির সরকারও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তা ছিল আনসারুল্লাহ আন্দোলনের বৈধতার প্রতি স্বীকৃতি।

মার্কিন বিশেষ দূত টিমোথি লিন্ডারকিং

আনসারুল্লাহর বৈধতার মূল বিরোধী শক্তিগুলো হল সৌদি ও মার্কিন সরকার। সৌদি সরকার ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ  বৈধ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার নামে  পদত্যাগী ও পলাতক মনসুর হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে ও আনসারুল্লাহকে অবৈধ শক্তি বলে ধরে নেয়। মার্কিন সরকারও সৌদি এই পদক্ষেপের সহযোগী হয়। 

সৌদি সরকার ঘোষণা করেছিল কয়েক সপ্তা'রও কম সময়ের মধ্যে আনসারুল্লাহকে পরাজিত করে মনসুর হাদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সান্‌আয় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। কিন্তু ছয় বছরেও সৌদি সরকারের সেই লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে গেছে। বরং আনসারুল্লাহ ও তার মিত্ররা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের মাধ্যমে ইয়েমেনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। 

ইয়েমেনের যুদ্ধে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত সৌদি জোট এখন ইয়েমেনের এই জাতীয় ঐক্যের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে যুদ্ধ শেষ করতে চায়। এমনকি সৌদি সরকার আনসারুল্লাহর সঙ্গেও আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে যা আনসারুল্লাহর বৈধতারই স্বীকৃতি। 

তবে আনসারুল্লাহর বৈধতার প্রতি সৌদি ও মার্কিন স্বীকৃতিকে চাপের মুখে নেকড়ে বাঘের ভদ্র আচরণের সমতুল্য! আনসারুল্লাহকে প্রকৃত বৈধতা বহু আগেই দিয়ে রেখেছে ইয়েমেনর জনগণই! আর এখন হস্তক্ষপকামী বাইরের শক্তিগুলোও এই বৈধতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে মাত্র। আনসারুল্লাহর জন্য এইসব স্বীকৃতি একটি রাজনৈতিক অর্জন হলেও সৌদি-মার্কিন জোটকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ও ইয়েমেনের ওপর থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক  নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধগুলো তুলে নিতে হবে। ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের প্রধান মুহাম্মাদ আলী আল হুথিও ঠিক এই দাবি তুলে ধরে তার দেশের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে বিশ্ব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ওয়াশিংটন হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে ইয়েমেনের একটি বৈধ পক্ষ বলে স্বীকার করে বলে ইয়েমেন বিষয়ে মার্কিন বিশেষ দূত টিমোথি লিন্ডারকিং গত রাতে বক্তব্য দেয়া সত্ত্বেও তার ওই বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

উল্লেখ্য এর আগে মার্কিন সরকার এক ঘোষণায় আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে সন্ত্রাসের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কথাও জানিয়েছিল। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫