সাত লাখ অধিবাসীকে রুশ ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা
ইউক্রেনের সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে যে কোনো সময় সংঘাতের আশঙ্কা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে অচিরেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে। উত্তেজনা বৃদ্ধির পর পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের নেতারা ঘোষণা করেছেন, তারা অন্তত সাত লাখ স্থানীয় বেসামরিক নাগরিককে রুশ ভূখণ্ডের মধ্যে স্থানান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের প্রধান ড্যানিস পুশিলিন এক বিবৃতিতে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় যত দ্রুত সম্ভব ওই এলাকা ত্যাগ করার জন্য বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন এবং বিভিন্ন ধরনের মারণাস্ত্র মোতায়েনের জন্য ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন। এদিকে, লুহান্স এলাকার স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের নেতা লোইনিদ পসেচনিক কিয়েভ কর্তৃপক্ষের সামরিক তৎপরতার তীব্র সমালোচনা করে সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে রাশিয়ার দিকে চলে যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ওদিকে, সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা তীব্রতর আকার ধারণ করার পাশাপাশি উভয় পক্ষ কামান ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করছে পরস্পরের প্রতি। ফলে সেখানে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা করা হচ্ছে। লুহান্সে বড় ধরনের দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে। এরপর ইউরোপ অভিমুখে রাশিয়ার গ্যাস পাইপ লাইনে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সন্ধ্যায়ও দোনেস্কে সরকারি ভবনের কাছেই গাড়ি বিস্ফোরণ হয়েছে।
পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০১৪ সালে সংকটের শুরু থেকেই দোনেতস্ক ও লুহান্স এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে। দুই দুই দিন আগে ওই দুই অঞ্চলে মর্টার ও কামানের গোলা নিক্ষেপের জন্য তারা ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে। রুশ পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর ধারণা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ভালো অজুহাত পাবে। দোনেতস্ক ও লুহান্স এলাকার রুশপন্থী নেতারা সাধারণ নাগরিকদেরকে রুশ ভূখণ্ডে সরিয়ে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাকে ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য জনমতকে বিভ্রান্ত করতে রাশিয়ার কৌশল বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। যদিও রাশিয়া আমেরিকার এ ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ নাকচ করে দিয়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বেধে যেতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকা ও তার মিত্ররা জোর দাবি জানিয়ে আসছে যে রাশিয়া নিশ্চিতভাবে ইউক্রেনে হামলা চালাবে। এমনকি তারা দিন তারিখও ঠিক করে দিচ্ছে। আমেরিকা যেভাবে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে তাতে এমনকি ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেননা এতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইউক্রেন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো ও মার্কিন সরকারের দেয়া তথ্যকে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কিয়েভের দেয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন কেননা ইউক্রেন সরকার রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা বিপদ ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।