স্পুৎনিককে সাক্ষাৎকার
পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকির কথা বললেন মেদভেদেভ
-
দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যদিও কেউ যুদ্ধ চায় না তবে সবসময় পরমাণু যুদ্ধের একটা ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে।
রাশিয়ার স্পুৎনিক' বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়া এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, "কেউই যুদ্ধ চায় না কিন্তু মানব সভ্যতায় পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি কমবেশি সবসময় বিদ্যমান রয়েছে।"
পরমাণু অস্ত্র থাকার কারণে ২০ এবং ২১ শতকে অনেকগুলো যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন তারা সঙ্গে একমত পোষণ করে মেদভেদেভ বলেন, এ বক্তব্য সঠিক। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা শেষ হয়ে যায় নি, সমাজে এর বাস্তব ঝুঁকি বিদ্যমান রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি স্নায়ু যুদ্ধের সময়কার অবস্থার চেয়ে খারাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মেদভেদেভ বলেন, এর কারণ হচ্ছে সেই সময় আমেরিকা এবং তার মিত্ররা রাশিয়ার শিল্প-কলকারখানা, কৃষি খাত এবং ব্যক্তিবিশেষের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নি; কিন্তু এখন তা করছে।
মেদভেদেভ আরো বলেন, রাশিয়ার নেতৃত্ব যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো তাহলে রাশিয়ার জনগণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে ‘কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসতো।
চলমান ঘটনাবলী সম্পর্কে তিনি বলেন, এগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ছাড়া আর কিছু নয় যার পরিণতি হচ্ছে বিশ্বের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস। পশ্চিমারা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এই যুদ্ধ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাশিয়ার সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞার ভেতর থেকে রাশিয়ার জনগণ নিজেদের পথ খুঁজে নেবে এবং অন্য কারোর ওপর নির্ভর করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।#
পার্সটুডে/এসআইবি/২৬