ফিলিস্তিনি জাতি মুক্তির সংগ্রামে এখন অনেক বেশি আশাবাদী
ফিলিস্তিনি সংগ্রামের অগ্রগতিতে বিশ্ব-কুদস দিবসের সাফল্যের রহস্য
-
ইয়েমেনে বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিল (ফাইল ছবি)
আজ বিশ্ব কুদস দিবস। মুসলমানদের প্রথম কিবলা তথা আল-আকসা মসজিদের শহর বায়তুল মুকাদ্দাসসহ গোটা ফিলিস্তিনকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাত থেকে মুক্ত করতে গণ-সচেতনতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে মরহুম ইমাম খোমেনীর আহ্বানে চালু হয়েছে এই দিবস।
১৯৭৯ সালে রমজানের শেষ শুক্রবারকে এই দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে প্রতি বছর একই দিনে পালন করা হচ্ছে এই দিবস।
ইমাম খোমেনী (র.) বলেছিলেন, কুদস্ দিবস হচ্ছে ইসলামের দিবস। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আরব দেশগুলোর মানুষ যদি এক বালতি করে পানি ঢালত তাহলে ইসরাইল ভেসে যেতো। ইসলামী ঐক্যের জন্য বিশ্ব কুদস্ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
এটা স্পষ্ট বিশ্ব-সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদের মোকাবেলায় গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিশ্ব-কুদস্ দিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। আজ কেবল মুসলিম জাতিগুলোই নয় অমুসলিম জাতিগুলোরও বিবেকবান জনগণ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে এবং ইহুদিবাদী দখলদারদের মানবতা বিরোধী নানা অপরাধ ও নজিরবিহীন নৃশংসতাগুলোর বিপক্ষে সোচ্চার হচ্ছেন। অনেকেই বয়কট করছেন ইসরাইলি পণ্য।
অন্যদিকে কুদস-দিবসের প্রেরণা বুকে নিয়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোর ময়দানি সাফল্যও বেশ উল্লেখযোগ্য। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাস ও জিহাদ আন্দোলন এখন ইসরাইলের জন্য মহাআতঙ্ক। এইসব জনপ্রিয় আন্দোলন বায়তুল মুকাদ্দাসকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গোটা ফিলিস্তিন অঞ্চল থেকে ইহুদিবাদী দখলদারদের বিতাড়িত করতে দৃঢ়-সংকল্পবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে তাদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।
গাজার সংগ্রামী ফিলিস্তিনিরা ইসলামী ইরানের সহায়তার সুবাদে এখন বেশ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অধিকারী যা তেলআবিবেও আঘাত হানতে সক্ষম। তাদের কাছে এখন রয়েছে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এবারের বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে বলেছেন, মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদে ইহুদিবাদীদের দমন অভিযান নতুন মাত্রা লাভ করলেও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামীরাও নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আজ পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের প্রতিরোধ ঠেকাতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাগলপ্রায় অবস্থা। অথচ ২০ বছর আগে নাহরিয়া এলাকায় মাত্র কয়েকজন ইহুদিবাদীর নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা জেনিন শরণার্থী শিবিরে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল। তাদের আশা ছিল জেনিন থেকে আর কখনো প্রতিরোধ আন্দোলন জেগে উঠবে না।
তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মাদ জাওয়াদ হাজ্জ আলি আকবারিও আজ এ বিষয়ে বলেছেন: ফিলিস্তিনিরা এখন খাল থেকে সমুদ্র পর্যন্ত সর্বত্র তাদের মুক্তির জন্য দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সংগ্রামী ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ এখন কুদস-কেন্দ্রীক মুক্তি সংগ্রামে ইসলামী ইরানের সহায়তা ও শহীদ কাসেম সুলায়মানির সহায়তাগুলোকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস আলকুদসকে মুক্ত করা ও ইসরাইলের ধ্বংস এখন সুদূর পরাহত কোনো বিষয় নয় বরং সেদিন ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯