তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বার্তা ও বারাজানির কণ্ঠে ইরাক-ভাগের দাবি
তুরস্কের নব-নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বিনআলী ইলদিরিম বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থায়ী উত্তেজনা তার কাম্য নয়। মিশর, রাশিয়া ও সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে ব্যাপক ফাটল ধরার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
তুর্কি সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে দৈনিক হুররিয়াত জানিয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই ছিল তার বড় ধরনের প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
গত মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ইলদিরিম। এর আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমাদ দাউদ উগলু মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে তুর্কি ক্ষমতা জাহির করার নীতি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে মনে করা হয়। তুরস্ক এখন আবারও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও তাদের সঙ্গে ‘শূন্য সমস্যা’ রাখার নীতিতে ফিরতে চায় বলে অনেকেই মনে করছেন। আর এ জন্যই নয়া তুর্কি প্রধানমন্ত্রী নমনীয় নীতির আভাস দিয়েছেন।
‘ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগর সীমান্তে থাকা ইসরাইল, সিরিয়া, রাশিয়া ও মিশরের সঙ্গে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বজায় রাখা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ইলদিরিম।
তুরস্ক সব সময়ই কট্টর ইসরাইল-বিরোধী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি জানিয়ে এসেছে। তুরস্ক সিরিয়ার কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন লাভের প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করে এসেছে। ইলদিরিম এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই হয়তো বলেছেন, সিরিয়ার অখণ্ডতা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো দীর্ঘকাল থেকেই ইরাক ও তুরস্কের কুর্দিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদ অত্যন্ত সক্রিয় করে রেখেছে। মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়া, ইরাক ও তুরস্কের কুর্দিদের স্বাধীনতার প্রচেষ্টায় নানাভাবে মদদ যোগাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে এই দেশগুলোকে টুকরো টুকরো করতে চায় মার্কিন-ইসরাইলি অক্ষ-শক্তি। আর এ জন্যেই তাদের মদদেই সিরিয়া ও ইরাকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী নানা গোষ্ঠীকে। আর দুঃখজনকভাবে তুর্কি সরকারও এইসব গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে ইসরাইল ও আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়েছে রাজতান্ত্রিক আরব সরকারগুলোর মতই। পর্যবেক্ষকরা বলছেন এ অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে রেহাই পাবে না সৌদি’র মত সরকারও। কারণ, সৌদি আরবকেও টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন-ইসরাইলি জোটের।
ইরাক থেকে কুর্দিদের বিচ্ছিন্নতার প্রচেষ্টায় প্রকাশ্যেই সমর্থন যুগিয়ে আসছে মার্কিন সরকার ও ইসরাইল। সম্প্রতি দায়েশকে দমনে ব্যস্ত ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারকে আবারও উদ্বিগ্ন করার মত কথা বলেছেন, স্বায়ত্তশাসিত ইরাকি কুর্দিস্তানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মাসরুর বারাজানি। মাসুদ বারাজানির ছেলে মাসরুর বারাজানি কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান। তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) বলেছেন, ইরাকে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে পরাজিত করার পর সেখানে তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিদের জন্য গঠিত হবে এই পৃথক তিন রাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, ইরাকের ফেডারেশন ব্যবস্থায় কাজ হচ্ছে না। তাই এখানে হয় কনফেডারেশন অথবা পুরোপুরি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কনফেডারেশন গঠন করা হলে তিনটি সমান ক্ষমতার রাজধানী গঠনও সম্ভব হবে এবং এর ফলে কেউ কারো ওপরে থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বারাজানি এর আগেও এ ধরনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বাগদাদ কঠোরভাবে এই দাবির বিরোধিতা করেছে। ইরাকি কুর্দিস্তান সরকারের সঙ্গে ইসরাইলের খুব ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য, সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। বাগদাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তুরস্কের মাধ্যমে ইসরাইলে তেল বিক্রি করছে কুর্দিস্তান।
এটা স্পষ্ট এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে যত বেশি বিভক্ত করা যাবে ততই লাভবান হবে ইসরাইল ও মার্কিন সরকার। #
পার্সটুডে/মু. আ. হুসাইন/১৭