পরমাণু ও জৈব বিষয়ক রহস্যময় পরীক্ষার প্রতিবাদে সিউলে মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ
পরমাণু অস্ত্রের কার্যকারিতা-সম্পন্ন নানা ধরনের জৈব-পরীক্ষা বা পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে নানা ধরনের রহস্যময় জৈব পরীক্ষা কিংবা জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর মার্কিন উদ্যোগের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে প্রতিবাদ-মিছিল হয়েছে।
প্রতিবাদীরা বলছেন, যুদ্ধবাজ মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধংদেহী নীতির আলোকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েকটি নতুন পরীক্ষাগার নির্মাণ করছে। নানা ধরনের বিপজ্জনক বায়ো-কেমিক্যাল বা জৈব-রাসায়নিক পরীক্ষা চালানোই এইসব পরীক্ষাগার নির্মাণের উদ্দেশ্য বলে তারা জানিয়েছেন।
প্রতিবাদীরা এ বিষয়ে জনমতের উদ্বেগ নিরসনের লক্ষে যথেষ্ট মাত্রায় ব্যাখ্যা দিতে ও স্বচ্ছতা আনতে মার্কিন এবং দক্ষিণ কোরীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে যেসব বক্তব্য রেখেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের অনেকেই তা বিশ্বাস করছেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে, জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্যই এইসব পরীক্ষা চালানো হবে।
তাদের এই দাবির প্রতি জনগণের একটা বড় অংশের অবিশ্বাসের কারণ হল, গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী বলেছিল প্রাণঘাতী অ্যান্থ্রাক্স রোগের জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া বহনকারী কিছু বক্স বা প্যাকেট অনিচ্ছাকৃতভাবে ও ঘটনাক্রমে আমেরিকা এবং আরও নয়টি দেশের ১৯২টি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
১৯৪৮ সালে কোরিয়ার বিভক্তি এবং ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কার্যত মার্কিন সরকারের সহযোগী ও অনুগত হয়ে আছে। এর ফলে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতে সমৃদ্ধি দেখা গেছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটির জনগণ তাদের জাতীয় গৌরবকে উপেক্ষা করার মার্কিন পদক্ষেপ সহ্য করতে রাজি নন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টরা খুব কমই মার্কিন সরকারের কোনও নীতির বিরুদ্ধে নিজ দেশের গণদাবির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ সব সময়ই মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তারা সব সময়ই মার্কিন-বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এই দেশটির সরকারগুলো সব সময়ই মার্কিন নীতিগুলোকে কোনও বাছ-বিচার ছাড়াই বাস্তবায়ন করে এসেছেন। এমনকি তারা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সব চুক্তিও বাতিল করেছেন পিয়ংইয়ংয়ের কথিত মানবাধিকার বিরোধী পদক্ষেপ ও পরমাণু কর্মসূচির অজুহাতে।
এভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টরা মার্কিন সরকারের একান্ত অনুগত হওয়ায় আমেরিকা যা-খুশি তা-ই করতে পারছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলের এই দেশটিতে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া পরিণত হয়েছে মার্কিন সরকারের নানা ধরনের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষাগারে। দেশটিতে এখনও মোতায়েন রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা। এ অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে নানা ধরনের জৈব ও রাসায়নিক পরীক্ষাগার তৈরির মার্কিন চেষ্টায় সিউলের সরকারী নেতারা কোনও বাধা দিবেন বলে মনে হয় না। উত্তর কোরিয়ার জৈব ও জীবাণু অস্ত্র মোকাবেলার নামে তারা বরং মার্কিন এই উদ্যোগের প্রশংসাই করবেন।
জাপানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা মনে করছেন, সিউলের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সহযোগিতার ফলে এই দেশটি উত্তর কোরিয়ার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণেরও অনেকে এ বিষয়টিকে ভালো চোখেই দেখছেন। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৮