প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেল বাজারে অস্থিরতা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i154888-প্রত্যাশা_এবং_ভূ_রাজনৈতিক_উত্তেজনার_মধ্যে_তেল_বাজারে_অস্থিরতা
পার্সটুডে-ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর আশা এবং রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির উদ্বেগের কারণে গত দুই সপ্তার মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে ঠেকেছে। পার্সটুডে'র এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী তেল বাজারের পরিস্থিতি সংক্ষেপে পর্যালোচনা করা হয়েছে:
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫ ১৭:৪৬ Asia/Dhaka
  •  অস্থির তেলের বাজার
    অস্থির তেলের বাজার

পার্সটুডে-ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর আশা এবং রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির উদ্বেগের কারণে গত দুই সপ্তার মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ স্তরে গিয়ে ঠেকেছে। পার্সটুডে'র এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী তেল বাজারের পরিস্থিতি সংক্ষেপে পর্যালোচনা করা হয়েছে:

মুদ্রানীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেলের মূল্যের অস্থিরতা

ব্রেন্ট তেলের দাম ০.১৪ শতাংশ বেড়ে $ ৬৩.৮৪ এবং মার্কিন WTI তেল ০.১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল $ ৬০.১৬ হয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ (LSEG) এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল রিজার্ভ সভায় সুদের হার কমানোর আশায় বিনিয়োগকারীরা ৮৪ শতাংশ  আত্মবিশ্বাসী। এই  আত্মবিশ্বাস অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি চাহিদা বাড়াতে পারে। তবে, এই বৈঠকটিকে 'সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সবচেয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারী বৈঠক' হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর ফলাফল বাজারের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

 

দ্বিমুখি ঝুঁকি: ইউক্রেনের শান্তি এবং রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

অপরদিকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি একটি তেজি ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। ANZ ব্যাংকের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার ফলাফল তেল সরবরাহকে প্রতিদিন ২ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। 'তেলের দামের প্রধান নিম্নমুখি ঝুঁকি হলো যুদ্ধবিরতি, অপরদিকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্রমাগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্য একটি উর্ধ্বমুখী ঝুঁকি।' একই সময়ে রাশিয়ার তেলের ওপর 'সম্পূর্ণ সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা' দিয়ে জি-সেভেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে 'মূল্যসীমা' নির্ধারণের জন্য আলোচনা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক থেকে সরবরাহের মাত্রা আরও সীমাবদ্ধ করতে পারে।

 

বিশ্ব মঞ্চে জ্বালানি খেলোয়াড়গণ

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি দোহা অর্থনৈতিক ফোরামে জোর দিয়ে বলেছেন দেশটি বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চাহিদা নিশ্চিতত করতে প্রস্তুত রয়েছি। আল-কাবি কাতারের উৎপাদন প্রতি বছর ৭৭ মিলিয়ন থেকে ১৪২ মিলিয়ন টন বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে মার্কিন গোল্ডেন পাস টার্মিনাল থেকে ১৮ মিলিয়ন টনও রয়েছে। তবে আল-কাবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে অতিরিক্ত সরবরাহে বিনিয়োগের অভাব দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেছেন: এআই এমন একটি কারখানার মতো যার ২৪/৭ শক্তির প্রয়োজন।

 

ড্রোন হামলার পর রপ্তানির রুট পরিবর্তন করেছে কাজাখস্তান

কৃষ্ণ সাগরে ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম সুবিধাগুলোতে ইউক্রেন হামলা চালানোর ফলে কাজাখস্তানকে বাকু-তিবিলিসি-সেহান পাইপলাইনের বিকল্প রুট ব্যবহার করে ৩০ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি করতে বাধ্য করা হয়েছে। ডিসেম্বরে এই রুট থেকে রপ্তানি প্রতিদিন প্রায় ৪৭ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বারবার ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার পাইপলাইন ব্যবস্থা 'চাপের মধ্যে' থাকায় এবং অতিরিক্ত তেলের জন্য কাজাখস্তানের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকায় এই পরিবর্তন এসেছে।

 

জ্বালানি বাজারে হুমকি এবং সুযোগের কেন্দ্রবিন্দু: ভেনিজুয়েলা

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল বাজারকে গুরুতর অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার উৎপাদন প্রতিদিন ৩ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, এখন তার তেল রপ্তানির ৯৫ শতাংশ সরাসরি চীনে পাঠায়। এটি সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণকে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিগ্রস্ত করে তোলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন এই চাপের মধ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম লক্ষ্য হল পশ্চিম গোলার্ধে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা করা।

 

ইরান ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: কৌশলগত প্রভাব

ভেনিজুয়েলার পর মার্কিন সামরিক আক্রমণের দৃশ্যপট বৈশ্বিক জ্বালানি মানচিত্রকে নতুন রূপ দিতে পারে। চীনে ভেনিজুয়েলার তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দিলে এই শূন্যস্থান পূরণে ইরান ও রাশিয়ার মতো সরবরাহকারী দেশগুলোর কৌশলগত ভূমিকা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি মার্কিন পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমা বাজারে ভেনিজুয়েলার তেল ফিরে আসে, তাহলে মার্কিন বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা তীব্র হবে এবং পূর্ব এশিয়ায় নতুন ক্রেতা খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

বিশ্ব তেল বাজারগুলো ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে, কারণ সংঘাতের যে কোনও ঘটনা দেশটিকে তেলের দামের অস্থিরতার কেন্দ্রস্থল হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং বিশেষ করে চীনের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা সমীকরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে তেল বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে, সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি চক্র চাহিদাকে উদ্দীপিত করতে পারে, অন্যদিকে, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার উত্থান সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এদিকে, কাতারের মতো খেলোয়াড়রা গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে চাচ্ছে, অন্যদিকে তেল পরিবহন রুটগুলো সংঘাতের আশঙ্কায় পুনর্নির্মিত হচ্ছে। এই জটিল সমীকরণের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করে যুদ্ধ কক্ষ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর, যে সিদ্ধান্তগুলো আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।#

পার্সটুডে/এনএম/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন