মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের তীব্র প্রতিক্রিয়া; সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ
-
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস
পার্সটুডে-ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ইউরোপীয় কতিপয় কর্মকর্তার ওপর নতুন করে মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন।
এই পদক্ষেপকে তিনি অগ্রহণযোগ্য এবং ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠলে দেওয়ার নামান্তর বলে অভিহিত করেছেন।
সাবেক অভ্যন্তরীণ বাজার কমিশনার থিয়েরি ব্রেটনসহ পাঁচ ইউরোপীয় নাগরিক ও কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই পদক্ষেপকে 'অগ্রহণযোগ্য' এবং ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
কালাস জোর দিয়ে বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল স্থান নিয়ন্ত্রণের অধিকার সংক্রান্ত মূল্যবোধ ইউরোপ রক্ষা করে চলবে।
পৃথক এক বিবৃতিতে, ইউরোপীয় কমিশনও মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং তার আইন ও মূল্যবোধ অনুসারে ডিজিটাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইইউর সার্বভৌম অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে। ব্রাসেলস সতর্ক করে দিয়েছে যে, নিজেদের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন আমেরিকার বিরুদ্ধে 'ভীতি প্রদর্শন' করার অভিযোগ করেছেন এবং ব্রেটনের ভিসা বাতিলকে ইউরোপের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। 'ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট' তৈরিতে ব্রেটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তুর জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে। ইউরোপীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। জে.ডি. ভ্যান্সের মতো মার্কিন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইইউ'র আইনের সাম্প্রতিক সমালোচনার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক এক নীতিমালায়, ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে 'ইউরোপীয় সভ্যতা পতনের' দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ইইউ এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের নিয়ম নিজেরাই নির্ধারণ করার অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন