সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি: ইরানবিরোধী মিডিয়ার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156458-সন্ত্রাসী_কর্মকাণ্ডে_উসকানি_ইরানবিরোধী_মিডিয়ার_আন্তর্জাতিক_আইন_লঙ্ঘন
পার্সটুডে: ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলি উসকানিমূলক বিশৃঙ্খলা, দাঙ্গা ও অশান্তির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মিডিয়াগুলোর সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের ভূমিকা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব গণমাধ্যম পেশাদার সাংবাদিকতার সীমা অতিক্রম করে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদে পরোক্ষ সহায়তার পথে হাঁটছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
(last modified 2026-01-26T14:47:35+00:00 )
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১৭:৩১ Asia/Dhaka
  • 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল': ইসলামিবিপ্লব বিরোধী নেটওয়ার্ক
    'ইরান ইন্টারন্যাশনাল': ইসলামিবিপ্লব বিরোধী নেটওয়ার্ক

পার্সটুডে: ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলি উসকানিমূলক বিশৃঙ্খলা, দাঙ্গা ও অশান্তির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি মিডিয়াগুলোর সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের ভূমিকা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব গণমাধ্যম পেশাদার সাংবাদিকতার সীমা অতিক্রম করে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদে পরোক্ষ সহায়তার পথে হাঁটছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ব্রিটেন থেকে পরিচালিত ইরান ইন্টারন্যাশনাল, বিবিসি ফার্সিসহ কয়েকটি নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে ভুয়া ও বিকৃত তথ্য প্রচার করে সমাজে আতঙ্ক, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে- যা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।

যুক্তরাজ্যে অফকম (Ofcom) নামক সংস্থা সম্প্রচার, রেডিও এবং টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছে। এই দেশে সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে অফকমের অনুমতি নিতে হয় এবং অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করলে লাইসেন্স বাতিল ও সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক, বিবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক এবং বেশ কিছু অন্যান্য টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন, তাদের সাথে সাক্ষাৎকার এবং তাদের অবস্থানের স্পষ্ট প্রচারের মাধ্যমে অফকমের আইন স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।

এই সংবাদ নেটওয়ার্কগুলো দাবি করে যে, তারা ফার্সি ভাষাভাষীদের জন্য খবর কভার করছে, কিন্তু তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তাদের পরিচালকদের মূল উদ্দেশ্য হল- সাইকোলজিক্যাল অপারেশন চালানো, মিথ্যা খবর প্রচার করা, সমাজে ভীতি ও হতাশার পরিবেশ তৈরি করা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সংস্থাগুলিকে মিডিয়া সেবা প্রদান ও সহিংসতা উসকে দেওয়া।

ইরানে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়েশ-সদৃশ অরাজকতা ও অপরাধের আলোকে, এই আমেরিকা-ইহুদিবাদী প্রচার নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে সমস্ত কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী- যদি প্রমাণিত হয় যে, কোন মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে এবং এই কাজ সরাসরি সহিংসতা, সন্ত্রাস বা জননিরাপত্তা হুমকির কারণ হয়েছে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন এবং সাইকোলজিক্যাল অপারেশনে বিদেশে অবস্থিত কিছু তথাকথিত ফার্সি ভাষার মিডিয়া, বিশেষ করে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং বিবিসি ফার্সি, সক্রিয় ও সংগঠিত ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের জনগণের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এই মিডিয়াগুলির কার্যক্রম বেশ কিছু মূল ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও মিডিয়া নিয়ম লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হয়।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বাস করে যে, বিদেশে অবস্থিত কিছু ফার্সি ভাষার মিডিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সাক্ষাৎকার, সহিংস কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক প্রতিফলন, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মুখপত্রদের আমন্ত্রণ এবং সশস্ত্র অপারেশনের প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মিডিয়া নিয়ম স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০০১ সালে গৃহীত প্রস্তাব ১৩৭৩ অনুযায়ী, দেশগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকতে এবং সন্ত্রাসবাদের প্রচার, প্রসার বা বৈধতা প্রদান থেকেও বিরত থাকতে বাধ্য। ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিতে, যেসব মিডিয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের নেতৃত্বকে প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে এবং এই মিডিয়াগুলোর পরিচালকদের আশ্রয় ও সমর্থনকারী দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের স্পষ্ট উদাহরণ।

কিছু বিরোধী মিডিয়ার কার্যক্রম, মিডিয়া আইনের ভিত্তিতে নয়, বরং শত্রুতামূলক কার্যকলাপ, সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার এবং সন্ত্রাসবাদের পরোক্ষ সমর্থনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। এই মিডিয়াগুলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন, অফকামের নিয়মকানুন এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করছে এবং তাদের 'সন্ত্রাসী মিডিয়া' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৬