ডায়াবেটিসজনিত পায়ের ক্ষত চিকিৎসায় অগ্রগতি: আমেরিকার আগেই সফল ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i157248-ডায়াবেটিসজনিত_পায়ের_ক্ষত_চিকিৎসায়_অগ্রগতি_আমেরিকার_আগেই_সফল_ইরান
পার্সটুডে : ইরানের রোয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিসজনিত পায়ের ক্ষত চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উন্নত কোষজাত পণ্য সফলভাবে হিমায়িত করে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একই ধরনের পণ্যের ১৪ দিনের ব্যবহারসীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন।
(last modified 2026-02-22T11:54:16+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১৬:২৫ Asia/Dhaka
  • কোষজাত পণ্যে ইরানের সাফল্য
    কোষজাত পণ্যে ইরানের সাফল্য

পার্সটুডে : ইরানের রোয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিসজনিত পায়ের ক্ষত চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উন্নত কোষজাত পণ্য সফলভাবে হিমায়িত করে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একই ধরনের পণ্যের ১৪ দিনের ব্যবহারসীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন।

তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে পার্সটুডে জানায়, রোয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উন্নত কোষজাত পণ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক আনসিয়ে হাজিজাদেহ বলেন, তাদের গবেষকরা ডায়াবেটিক পায়ের ঘা চিকিৎসার জন্য একটি অত্যাধুনিক কোষীয় পণ্য হিমায়িত করতে সফল হয়েছেন। এর ফলে তারা আমেরিকার নমুনার ১৪ দিনের ব্যবহারযোগ্যতার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। এই পণ্যটি মূলত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দ্বারা উদ্ভাবিত এবং পরে অর্গানোজেনেসিস কোম্পানি কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত Apligraf-এর একটি বায়োসিমিলার (জৈব সদৃশ) নমুনা।

তিনি জানান, আমেরিকার পণ্যটিতে জীবিত কোষ থাকায় এটি মাত্র ১৪ দিন ব্যবহারযোগ্য ছিল, এরপর তা নষ্ট হয়ে যেত। যেখানে এর দাম ছিল প্রায় ১৫০০ ডলার, সেখানে এই বিষয়টি রোগীদের চিকিৎসায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। এই সীমাবদ্ধতা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সমন্বয় সাধনকে কঠিন করে তুলেছিল, কারণ উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রতিস্থাপন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হতো।

হিমায়িত করেও অক্ষত থাকছে কোষের গঠন

আনসিয়ে হাজিজাদে বলেন, অনেকের ধারণা ছিল- যদি এ ধরনের পণ্য ফ্রিজ করা সম্ভব হতো, তাহলে আমেরিকার গবেষকরাই তা আগে করে ফেলতেন। কিন্তু রয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষক পরীক্ষাগারে নতুন একটি কৌশল উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে পণ্যটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফ্রিজ করে পরে গলানোর পরও টিস্যুর গঠন ও কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।

তার ভাষায়, গলানোর পর কোষের গঠন আগের মতোই থাকে এবং চিকিৎসাগত কার্যকারিতায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। অর্থাৎ, হিমায়িত প্রক্রিয়া পণ্যের মান বা কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না।

অনুমোদনের পথ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

এই সাফল্যের পর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল ইরানের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষকে এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সন্তুষ্ট করা। একই সময়ে মার্কিন কোম্পানিটি StrataGraft নামে একটি উন্নত সংস্করণ বাজারে আনে, যাতে ফ্রিজ করার সুবিধা যুক্ত করা হয়। এই ঘটনাপ্রবাহ ইরানি উদ্ভাবনের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে দেয়।

হাজিজাদে জোর দিয়ে বলেন, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। বরং দেশটির গবেষকরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ডায়াবেটিক পায়ের ঘা-এর চিকিৎসায় এই অগ্রগতি যেমন নতুন পথ খুলে দিয়েছে, তেমনি এটি আন্তর্জাতিক নমুনার সাথে প্রতিযোগিতায় ইরানি গবেষকদের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। #

পার্সটুডে/এমএআর/২২