বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তি প্রয়োগের যুক্তিতে আমেরিকার প্রত্যাবর্তন
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অস্ত্রের ওপর জোর দেওয়া, ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধির নীতিগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে;এমন একটি চিত্র যা বহুপাক্ষিকতা এবং মানবাধিকারের মানদণ্ড থেকে স্পষ্টতই অনেক দূরে।
গত বছর এবং চলতি বছর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আগের চেয়েও বেশি সামরিক উপায় এবং ক্ষমতার যুক্তির উপর নির্ভরশীল ছিল। বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হিসেবে তার অবস্থান বজায় রেখে ওয়াশিংটন পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়ায় তার অস্ত্র প্রভাব সম্প্রসারণ করে। ইয়েমেনি এবং লোহিত সাগরের সংকটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের সাথে বড় সামরিক চুক্তিগুলো আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে ইন্ধন জোগায় এবং নিরাপত্তা ভারসাম্যকে ব্যাহত করে।
পূর্ব এশিয়াতেও এই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি ঘটে যেখানে তাইওয়ানের কাছে যুদ্ধবিমান এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসে। অধিকৃত ফিলিস্তিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার কাছে উন্নত গোলাবারুদ এবং অস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করে গাজায় ব্যাপক আক্রমণ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে সমর্থন করে;মানবাধিকার সংস্থাগুলো মতে যেসব হামলায় বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
একই সময়ে,তেল আবিবের নীতির প্রতি হোয়াইট হাউসের সম্পূর্ণ সম্মতি এই সময়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি,নিরাপত্তা পরিষদে সমালোচনামূলক প্রস্তাবের ভেটো এবং পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছিল যে ওয়াশিংটন কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ত্যাগ করেনি, বরং দখলদারিত্বের একটি প্রশ্নাতীত সমর্থকও হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারও এই প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
অভ্যন্তরীণভাবে কঠোর অভিবাসন নীতি এবং অভিবাসীদের ব্যাপক বহিষ্কার সমাজের একটি নিরাপত্তা-সচেতন এবং বন্ধ চিত্র তুলে ধরেছে। এই উন্নয়নের সারসংক্ষেপ আজকের আমেরিকার এমন একটি চিত্র উপস্থাপন করে যা তার মিত্রদের জন্য অপ্রত্যাশিত এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্থিতিশীলতার একটি নতুন উৎস।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।