এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: ব্রিটেনে রাজনৈতিক ঝড়, চাপে স্টারমার সরকার
-
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
পার্সটুডে: যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও হাউস অব লর্ডসের সদস্যের সঙ্গে কুখ্যাত ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ এবং সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথি প্রকাশে পার্লামেন্টের সম্মতি— এই দুই বিষয় মিলিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার এখন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে।
এপস্টেইন কাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই ক্ষমতা, অর্থ ও যৌন অপরাধের গোপন সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেই ঘটনার প্রভাব লন্ডনেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংকটের কেন্দ্রে আছেন পিটার মেন্ডেলসন। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্টারমার সরকার। এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি পার্লামেন্ট, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে এবং তার দল লেবার পার্টির ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে। পুরো বিষয়টি এখন সরকারের জন্য একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
পার্লামেন্টে নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ বিতর্কের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাবে সম্মতি দেয়, যাতে মেন্ডেলসনের নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়। সরকার শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদলে এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়। ঠিক হয়, পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে এসব নথি প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হবে।
স্টারমারের বক্তব্য ও মানুষের সন্দেহ
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, তিনি মেন্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের কথা আগে থেকেই জানতেন, তবে সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল, তা জানতেন না। এই বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে মানুষের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন— সরকার কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে যথাযথ যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নিল?
পুলিশ তদন্ত শুরু
লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর মেন্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য ভাগাভাগি করেছিলেন। এ বিষয়ে কিছু নথি ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে।
লেবার পার্টিতে ভাঙন ও জনপ্রিয়তার পতন
এই ঘটনা এখন শুধু একটি কেলেঙ্কারি নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। লেবার পার্টির ভেতরেই ক্ষোভ ও বিভাজন বাড়ছে। দলের অনেক নেতা বলছেন, তারা বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি করছেন।
জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভ–এর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ স্টারমারকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আর ৭৫ শতাংশ মানুষ তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
স্টারমার সরকারের ভবিষ্যৎ
সরকার বলেছে, তারা পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নথি প্রকাশ করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামনে আরও তথ্য প্রকাশ পেলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এপস্টেইন–মেন্ডেলসন কাণ্ড এখন শুধু একটি কেলেঙ্কারি নয়, এটি হয়ে উঠেছে লেবার পার্টির ঐক্য, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যতের বড় পরীক্ষা। এই ঘটনার ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতির দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৫