ইরান-মার্কিন আলোচনাকে সামনে রেখে মিডিয়ার অপতৎপরতা কেন বাড়ল?
পার্সটুডে- ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পারমাণবিক আলোচনা আয়োজনের দুই দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে বুধবার রাতে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম আলোচনাটি বাতিল হয়েছে বলে দাবি করতে থাকে।
এরপর কিছু গণমাধ্যম আবার দাবি করেছে, কয়েকটি আরব দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি আলোচনা বাতিলের খবর প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আসছে শুক্রবার ওমানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ায় নতুন যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।
মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো রাজনৈতিক কর্মকর্তা আলোচনা বাতিল হওয়ার বিষয়ে কিছু না বললেও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো ব্যাপকভাবে আলোচনা বাতিলের খবর প্রচার করে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও অত্যন্ত গভীরে, কিন্তু পরিস্থিতি দেখে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের পক্ষ থেকে আলোচনা বাতিল-সংক্রান্ত খবরটি প্রচার করা হয়েছিল অসৎ উদ্দেশ্যে। এটা করা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও মিডিয়া যুদ্ধের অংশ হিসেবে।
প্রশ্ন হলো, আলোচনার প্রাক্কালে কেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে এমন মিডিয়া যুদ্ধের গুরুত্ব বেড়ে গেছে? এর প্রধান কারণ হলো, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখা, যাতে সর্বোচ্চ ছাড় আদায় করা যায়। মার্কিন ও ইহুদিবাদীরা এটা ভালোভাবেই জানে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার রেড লাইন বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষিতে বসবে না। অন্যদিকে, তারা এই ভুল হিসাবও বারবার করছে যে, ইরান দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধে আত্মরক্ষা করতে পারবে না।
এই ভুল ধারণার ভিত্তিতে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ যাচ্ছে, যাতে আলোচনার টেবিলে ইরানের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ছাড় আদায় করা যায়। তবে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্থিরতা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে যে, ইরান দুর্বল অবস্থানে নেই এবং মার্কিন পক্ষের অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে।
আরেকটি লক্ষ্য ছিল, মাস্কাটে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার আলোচনার প্রাক্কালে আলোচনার আয়োজন নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা এবং আলোচ্য বিষয়ের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ইরানের দৃঢ়সংকল্প ও রেড লাইনগুলো পরীক্ষা করা।
কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি কেবলমাত্র পারমাণবিক আলোচনার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই ধরনের “পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের” ব্যাপারে সচেতন এবং সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের এই কৌশলে প্রভাবিত হবে না। ইরানের কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে পূর্বনির্ধারিত কাঠামো থেকে সরে না আসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তৃতীয় লক্ষ্য ছিল বিশ্ব জনমতকে একটি ভুল ও মিথ্যা বার্তা দেওয়া। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালাতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিশ্ববাসীর সামনে ইরানের আত্মসমর্পণের কোনো চিত্র তুলে ধরতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নেমেছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো এমন ধারণা সৃষ্টি করা যে, চাপের মুখে পড়ে তেহরান আলোচনায় বসেছে, যাতে ওয়াশিংটনের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়।
আরাকচির টুইট চাপের কাছে নতিস্বীকারের বয়ানকে বাতিল করে দিয়েছে এবং এটা দেখিয়েছে যে, ইরান নিজ সিদ্ধান্তে ও নিজ উদ্যোগে আলোচনায় প্রবেশ করছে—সামরিক হুমকি বা সর্বাত্মক চাপের প্রতিক্রিয়ায় নয়। এই টুইটকে বয়ানের যুদ্ধে একটি নিখুঁত পাল্টা আঘাত এবং অপপ্রচারকে রুখে দেওয়ার চমৎকার কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।#
পার্সটুডে/এসএ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন