ট্রাম্প কেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেলেন?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159694-ট্রাম্প_কেন_ইরানের_বিরুদ্ধে_যুদ্ধে_হেরে_গেলেন
পার্সটুডে-আটলান্টিক কাউন্সিল থিংকট্যাঙ্ক এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলার কারণ বিশ্লেষণ করে বলেছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তিতে নয়, বরং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন। আর এখন তিনি এমন একটি বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন, যেখানে তেহরান আগের চেয়ে আরও বেশি হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
(last modified 2026-05-26T11:32:35+00:00 )
মে ২৬, ২০২৬ ১৭:২২ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে-আটলান্টিক কাউন্সিল থিংকট্যাঙ্ক এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলার কারণ বিশ্লেষণ করে বলেছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তিতে নয়, বরং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন। আর এখন তিনি এমন একটি বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন, যেখানে তেহরান আগের চেয়ে আরও বেশি হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

পার্সটুডে, ইরনা’র বরাতে জানিয়েছে, আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক জেফরি ফ্রাম লিখেছেন, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইরান সম্পর্কিত স্লোগান ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি শুধু নিজেকেই প্রতারিত করেছেন।

প্রবন্ধটির লেখক ডেভিড জেফরি ফ্রামের দৃষ্টিতে, ট্রাম্প ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির (১৪০৪ সালের ৯ এসফন্দ) যুদ্ধ কোনো কৌশলগত হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রবণতা ও মানসিকতার কারণে শুরু করেছিলেন। আর এখন একই কারণেই তিনি পরাজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্পের যে ব্যক্তিত্বগত দুর্বলতাগুলো তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিল

লেখক ট্রাম্পকে অহংকারী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সবসময় তার পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের “বোকা” বলে অভিহিত করেছেন এবং নিজেকে “অত্যন্ত বুদ্ধিমান” হিসেবে তুলে ধরেছেন। অথচ ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ট্রাম্প সম্ভবত মনে করেছিলেন, অন্যদের জন্য যা অত্যন্ত কঠিন ছিল, তা তিনি সহজেই করতে পারবেন—শুধু এই কারণে যে তিনি নিজেকে “কঠোর মানুষ” মনে করেন এবং আনুষ্ঠানিক ছবিতে রাগান্বিত ভঙ্গিতে উপস্থিত হন।

ট্রাম্প বেপরোয়া এবং পরিকল্পনাহীন

এই বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখক ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার কথা উল্লেখ করেন; যখন ট্রাম্প তার বিপুলসংখ্যক সমর্থককে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে কংগ্রেস ভবনে হামলায় উৎসাহিত করেছিলেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের এই জ্যেষ্ঠ সদস্য ট্রাম্পের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে তার সহজে ভেঙে পড়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ট্রাম্প যতই বড় বড় কথা বলুন বা আত্মপ্রশংসা করুন না কেন, জনমত জরিপের ফল দেখলেই তিনি চাপ সহ্য করতে পারেন না, ভীত হয়ে পড়েন এবং নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, মার্চ মাসের মাঝামাঝি (১৪০৪ সালের শেষ এসফন্দ) থেকে তিনি বারবার বলে আসছিলেন যে যেকোনো মূল্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান চান। ইরানও এই বার্তার অর্থ বুঝে গিয়েছিল এবং নিশ্চিত হয়েছিল যে তারা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি চাপ সহ্য করতে পারবে।

ট্রাম্প সরলবিশ্বাসী ও আত্মপ্রবঞ্চক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অত্যন্ত সহজে বিশ্বাস করে ফেলেন। অথবা, বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০১৬ সালে যেভাবে বলেছিলেন, তিনি মূলত একজন “প্রতারক”, যিনি শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের প্রতারণার শিকার হন।

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ট্রাম্প “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি আলোচনার টেবিলে এমন একটি বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন, যেখানে তেহরানের আরও বেশি দাবিকে মেনে নিতে হচ্ছে এবং যুদ্ধের আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অথচ একই সময়ে তিনি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে তিনি একটি “বড় বিজয়” অর্জন করেছেন এবং অন্যরা কেন এই দাবি বিশ্বাস করছে না, তা দেখে তিনি বিস্মিত হচ্ছেন।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।