ইরানে অপমানিত হওয়ার পর কিউবার ওপর প্রতিশোধ নিতে চান ট্রাম্প: গার্ডিয়ান
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: কিউবার বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান' লিখেছে, ইরানের কাছে অপমানিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন কিউবাকে নিশানা করে একটি সহজ জয় ও প্রতিশোধের পথ খুঁজছে।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্ডিয়ানের কলামিস্ট ওয়েন জোন্স তার নিবন্ধে লিখেছেন, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে একটি দ্রুত “সাফল্য” অর্জনের চেষ্টা করছে, যা সাম্প্রতিক বৈশ্বিক কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করতে পারে।
নিবন্ধে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে—যার মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড এবং বিমান ধ্বংসের মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পদক্ষেপকে অনেকেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক চাপ প্রয়োগের আগের কৌশলগত পরিবেশ তৈরির সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিশিষ্ট কলামিস্ট 'ওয়েন জোন্স' আরও লিখেছেন: কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, চারটি হত্যাকাণ্ড এবং দুটি বিমান ধ্বংসের মতো গুরুতর অভিযোগে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক অভিযোগনামা দাখিলের বিষয়টি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের আগের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়; যা সে সময় নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই কলামে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে— কিউবা আমেরিকার গুয়ান্তানামো বে সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জন্য ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন জড়ো করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিকে কিউবার পক্ষ থেকে একটি "ক্রমবর্ধমান হুমকি" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গার্ডিয়ানের কলামে আরও বলা হয়েছে: এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং এটি ইরাকে আক্রমণের জন্য তৈরি করা সেই পুরোনো অজুহাত "গণবিধ্বংসী অস্ত্র" (WMD)-এর কথাই মনে করিয়ে দেয়।
নিবন্ধের বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ বিশ্বাস করে যে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী শক্ত অবস্থানে থাকা কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সাফল্য অর্জন সম্ভব, যা আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক ব্যর্থতাগুলোর দাগ মুছে দেবে এবং মার্কিন সামরিক আধিপত্য ও অহংকার পুনরুত্থান ঘটাবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩১