ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কীভাবে পরাজিত হলো যুক্তরাষ্ট্র?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i160372-ইরানের_বিরুদ্ধে_যুদ্ধে_কীভাবে_পরাজিত_হলো_যুক্তরাষ্ট্র
পার্সটুডে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর ১০৬ দিন পর তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা কাঠামোয় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু সংঘাতের সমাপ্তিই নয়, বরং যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী ও পরাজিত কে—সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
(last modified 2026-06-15T14:58:03+00:00 )
জুন ১৫, ২০২৬ ২০:৫২ Asia/Dhaka
  • ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কীভাবে পরাজিত হলো যুক্তরাষ্ট্র?

পার্সটুডে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর ১০৬ দিন পর তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা কাঠামোয় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু সংঘাতের সমাপ্তিই নয়, বরং যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী ও পরাজিত কে—সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করা। এ লক্ষ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা, যাতে দেশটি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

তবে ঘটনাপ্রবাহ পরিকল্পনাকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। ইরান শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় কৌশলগত ভুল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, তারা ধারণা করেছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে। দ্বিতীয়ত, তারা বিশ্বাস করেছিল যে প্রাথমিক সামরিক চাপের মুখে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ইরান দ্রুত তার কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শেষে যে সমঝোতা হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পূরণ হয়নি। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বহাল রয়েছে, দেশটির কৌশলগত সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ আছে এবং আঞ্চলিক প্রভাবও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি বাস্তবতা মেনে নিতে হয়েছে, যেখানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে আঞ্চলিক সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিক থেকেও সমঝোতাটি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক পক্ষ যুদ্ধের অবসানকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের ভূমিকা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, আধুনিক কৌশলগত বিশ্লেষণে যুদ্ধের সাফল্য শুধু সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। সেই বিবেচনায় প্রশ্ন থেকে যায়—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে? পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্যমান বাস্তবতা অন্তত সেই দাবিকে সমর্থন করে না।

 

পার্সটুডে/এমবিএ/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।