ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ; ইউরোপের দুর্বল এয়ারলাইনগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে!
পার্সটুডে— পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বৃদ্ধি এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপের কয়েকটি ছোট বিমান সংস্থা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়া ও দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
পার্সটুডে, ইরনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারী ও বিমান পরিবহন শিল্পের কর্মকর্তারা ইউরোপের আর্থিকভাবে দুর্বল বিমান সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য পতনের নানা লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন।
ব্রিটিশ বিমান সংস্থা ইজিজেট একটি মার্কিন কোম্পানির কাছে অধিগ্রহণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। লাটভিয়ার মালিকানাধীন এয়ারবাল্টিক তাদের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, নরওয়েজিয়ান কোম্পানি নর্স আটলান্টিক নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলোর নাজুক আর্থিক অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক পুনর্গঠন, বিক্রি অথবা দেউলিয়া হওয়া থেকে সুরক্ষার বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টারপাথ-এর ইউরোপীয় বিভাগের প্রধান বারমা বুকোম বলেন, “আমরা ইউরোপজুড়ে চার থেকে পাঁচটি বড় বিমান সংস্থার পুনর্গঠনের জন্য আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছি।”
গত মাসে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক বিমান শিল্প ২০২৬ সালের সম্ভাব্য মুনাফার পূর্বাভাস প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। ব্যাংকার ও বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দামে যে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে, তা করোনাকালীন আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এদিকে, বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে আগামী ২০ বছরে যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির উচ্চ মূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু বিমান সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে অথবা বড় কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যেতে পারে।#
পার্স টুডে/এমবিএ/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।