সতর্ক না হলে ‘বায়োহ্যাকাররা’ ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়!
-
ফ্লু ভাইরাস
অপেশাদার ‘বায়োহ্যাকাররা’ জীবিত প্রাণী বা অণুজীবের জিনের গঠন বদলে দিয়ে ভয়াবহ জৈব অস্ত্র তৈরি করে মানুষ ও প্রকৃতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন প্যারিংটন।
প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজেরা উৎসাহী হয়ে হাতে কলমে জীববিদ্যা নিয়ে কাজ করছেন এবং জীবিত প্রাণীদেহের জেনেটিক গঠন বদলে দেয়ার গবেষণা করছেন সাধারণভাবে এমন গবেষকদের ‘বায়োহ্যাকার’ বলা হয়। এদেরকে অনেক সময় 'ডু ইট ইয়োর সেলফ' সংক্ষেপে ডিআইওয়াই বা ‘নিজে করো’ বিজ্ঞানী নামেও ডাকা হয়।
জেনেটিক গঠন বদলে দেয়ার কাজে যেসব উপাদান এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয় তা এখন সহজেই পাওয়া যায়। বিশ্বজুড়েই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দিনে দিনে এসব জিনিস আরো সহজ লভ্য হয়ে উঠছে।
‘নিজে করো’ বিজ্ঞানীদের জন্য এটি এক মহা সুযোগ হয়ে উঠেছে। ইস্টের জেনেটিক গঠন বদলে দিতে পেরেছে এ দলের কেউ। প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না এমন কিছু গুণাবলী এভাবে ইস্ট-দেহে ঢোকানো গেছে। পনির তৈরিতে ইস্ট ব্যবহার হয়। বিয়ার তৈরিতেও লাগে ইস্ট। নতুন এ ইস্ট ব্যবহার করে পনিরে নতুন স্বাদ আনা সম্ভব হবে। এছাড়া, ফলের রস এবং ব্যাকটেরিয়ার তৈরি সেলুলোজের মিশ্রণ দিয়ে থ্রিডি প্রিন্টিং করে নতুন খাবার বানানো যায় কিনা তা নিয়ে কাজ করছেন লন্ডনের একদল ‘নিজে করো’ গবেষক। আরেক দল ইস্টে যোগ করতে চাইছে কেবলমাত্র দুধে পাওয়া যায় এমন একজাতের প্রোটিন বা আমিষ। সফল হলে, এতে ইস্ট থেকেই পাওয়া যাবে ‘খাটি গরুর দুধ!’
অবশ্য, এসব তৎপরতার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু নেই বা দোষেরও কিছু নেই। অপেশাদার এসব গবেষক নিজেদের কাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। গত বছরই সে খবর দিয়েছে গবেষণা সাময়িকী 'নেচার'। প্রকৃতিতে জিনের মিউটেশন ঘটে। গবেষকরা জীবদেহের ডিএনএ’র মধ্যে রদবদল ঘটিয়ে প্রায় একই কাজ করছেন বা করতে চাইছেন। গবেষণাগারের এ প্রক্রিয়াকে ‘ডিএনএ কাট’ বলা হয়। এমন কাজে কেউ কেউ সফলও হয়েছেন।
কিন্তু ভাবতে পারেন, এ বিদ্যার অপব্যবহার হলে কি ঘটবে? খুবই কম খরচে তৈরি হবে ভয়াবহ জৈব অস্ত্র। অর্থাৎ নতুন জাতের অণুজীব। পানি বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তা ডেকে আনবে মৃত্যু বা নতুন ধরণের অসুখ-বিসুখের মহামারী।
আর এমন আশংকা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই-কেও ভাবিয়ে তুলেছে দেশ-বিদেশের এমন গবেষণা প্রবণতা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র বিভাগের আওতায় এ সংক্রান্ত নতুন শাখাই খুলেছে এফবিআই।
এদিকে সোয়ানসিতে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ বিজ্ঞান মেলায় দেয়া ভাষণে ‘নিজে করো’ বিজ্ঞানীদের নিয়ে তীব্র আশংকার কথা বলেছেন অধ্যাপক প্যারিংটন। তিনি বলেন, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের দেহে পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রাণঘাতী নতুন প্রজাতির অণুজীব তৈরি করা যেতে পারে ভেবে বিজ্ঞানী সমাজ এবং নিরাপত্তা বিভাগে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/৮