ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে হতে পারে ক্যান্সার!
অ্যালুমিনিয়াম লবণযুক্ত দুর্গন্ধনাশক ডিওডোরেন্ট দীর্ঘ দিন ব্যবহারে নারীর স্তন ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। জেনেভায় পরিচালিত গবেষণা-সমীক্ষার ভিত্তিতে এ দাবি করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।
সুইস গবেষকরা বলেছেন, অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে দেহে টিউমার দেখা দিতে পারে। এ টিউমার পরে দেহের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানান তারা।
অবশ্য, এর আগে চালানো গবেষণা সমীক্ষায় ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। একই দাবি দীর্ঘদিন করছেন ডিওডোরেন্ট নির্মাতারাও। তাদের বানানো পণ্য পুরোপুরি নিরাপদ বলে দাবি করে আসছেন তারা।
তবে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ গবেষণা সমীক্ষায় এসব দাবি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঘাম রোধকারী পণ্যে যে অ্যালুমিনিয়ামের যৌগ থাকে তা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
এসব রাসায়নিক যৌগ উপাদান ঘর্মগ্রন্থির তৎপরতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এসব উপাদান ধীরে ধীরে স্তনের কোষকলায় জমা হতে থাকে। এতে ইস্ট্রজেনের মতো প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।
এভাবে দীর্ঘদিন এ জাতীয় রাসায়নিক যৌগসমৃদ্ধ ঘামনাশক সুগন্ধি ব্যবহারের ফলে টিউমার হতে পারে। এসব টিউমার প্রকৃতিগতভাবে দেহের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ গবেষণার উপ প্রধান আন্দ্রে-প্যাসকেল সাপ্পিনো এর সঙ্গে অ্যাসবেসটস ব্যবহারের তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, অ্যাসবেসটস ব্যবহারে যে ক্যান্সারের আশংকা বাড়ে তা মেনে নিতে ৫০ বছর লেগেছে।
সস্তা হওয়ায় একে আকর্ষণীয় শিল্প পণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। এর ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ৫০ বছর লেগেছে বলে জানান তিনি।
অ্যালুমিনিয়াম লবণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে এমন দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি এমন রাসায়নিক যৌগসমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য নারী-পুরুষ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৯