মিশরকে তেল বন্ধ করেছে সৌদি; রিয়াদ-কায়রো সম্পর্কে চিড়
-
সৌদি রাজা সালমান ও মিশরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল সিসি (ডানে)-ফাইল ফটো
মিশরকে বিশেষ সুবিধায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। মুজতাহিদ নামে সৌদি আরবের এক রাজনৈতিক কর্মী চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে এ তথ্য ফাঁস করেছেন। মিশরের কর্মকর্তারাও ঘোষণা করেছেন যে, সৌদি আরবের আরামকো তেল কোম্পানি মিশরের জেনারেল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে জানিয়েছে, তারা কায়রোকে তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।
গত এপ্রিলে সৌদি আরব প্রতিমাসে মিশরকে বিশেষ সুবিধায় সাত লাখ টন তেল দেয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী মিশর তেল পাচ্ছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার তোলা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ার পর সৌদি আরব মিশরকে সে সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই অধিবেশনে ফ্রান্সের তোলা একটি প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দিয়েছে এবং প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেছে।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসিও নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরব তেল সরবরাহ স্থগিত করেছে। তবে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য সৌদি আরব তেল সরবরাহ স্থগিত করে নি। অবশ্য তিনি জতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিশরের ভোট দেয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
কায়রোকে তেল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় সৌদি আরব কূটনৈতিকভাবে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ সৌদি আরবের সমর্থনে মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আস-সিসি।
মিশরের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তেল বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাটি নিতান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত তা বলবৎ থাকতে পারে বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন। সৌদি সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিশরের গণমাধ্যম রিয়াদ সরকারের সমালোচনা করছে।
মিশরের খ্যাতনামা টেলিভিশন সাংবাদিক আহমদ মুসা বিষয়টি গত মঙ্গলবার টকশোতে তুলেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, “যারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। যারা তাদের ইচ্ছার কাছে আমাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। যারা আমাদের বাহু ভেঙে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।”
মিশরের ইউয়ুম সেভেন পত্রিকার সম্পাদক খালেদ সালাহ এক বছরের জন্য হজ অনুষ্ঠান বর্জন করতে মিশরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এতে অন্তত ৬০০ কোটি মিশরীয় পাউন্ড বেঁচে যাবে। পাশাপাশি আল-ওয়াতান পত্রিকার মঙ্গলবারের সংখ্যায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে- “সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থনের মূল্য দিচ্ছে সৌদি আরব।” প্রতিবেদনে সৌদি পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনার পাশাপাশি সিরিয়ার জাবহাত ফাতেহ আশ-শামকে সমর্থন দেয়ার জন্য সৌদি শাসক গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফাতেহ আশ-শাম আগে আন-নুসরা ফ্রন্ট নামে কাজ করত এবং এটি ছিল উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সিরিয়া শাখা।
তেলের বিকল্প উৎস পেয়েছে মিশর: এদিকে, গত বুধবার মিশর ঘোষণা করেছে যে, সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের পর তারা এরইমধ্যে তেলের বিকল্প উৎসের সন্ধান পেয়েছে এবং সৌদি তেল বন্ধের কারণে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল তা পূরণ হতে শুরু করেছে।
মিশরের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামদি আবদেল আজিজের বরাত দিয়ে দেশটির পত্রিকাগুলো বলেছে, জরুরি বিজ্ঞপ্তির পর অন্য কয়েকটি সরবরাহকারী উৎস থেকে দেশে বেশ কয়েকটি চালান এসে পৌঁছেছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিরিয়া ইস্যুতে দুই মিত্রের মধ্যে মারাত্মক মতভেদের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়েছে তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয় নি। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নিরাপত্তা পরিষদেই প্রথম সৌদি আরব ও মিশরের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো মতবিরোধ দেখা গেল।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৪