দানব রূপে আফগান তালেবান: যেখানে যাচ্ছে চালাচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i25042-দানব_রূপে_আফগান_তালেবান_যেখানে_যাচ্ছে_চালাচ্ছে_ধ্বংসযজ্ঞ
আফগানিস্তানের সরকার জানিয়েছে, সেদেশের বিভিন্ন স্থানে তালেবান হামলা জোরদার হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এ ছাড়া, অনেক অপ্রকাশিত বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতিরও শিকার হচ্ছে দেশটি। আর তাই এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি দেয়া উচিত।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৭, ২০১৬ ১২:৩১ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানের সরকার জানিয়েছে, সেদেশের বিভিন্ন স্থানে তালেবান হামলা জোরদার হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এ ছাড়া, অনেক অপ্রকাশিত বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতিরও শিকার হচ্ছে দেশটি। আর তাই এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টি দেয়া উচিত।

আফগান প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র শাহ হোসেন মোরতাজাভি জানিয়েছেন, তালেবানরা যে এলাকা দখল করছে সেখানেই স্কুল, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তালেবানের হামলা অব্যাহত থাকায় তাদের মোকাবেলা করার অজুহাতে আমেরিকা শুধু যে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে তাই নয় একই সঙ্গে যেখানে সেখানে হামলাও জোরদার করেছে। সর্বশেষ কুন্দুজ প্রদেশে মার্কিন হামলায় ৪০ জনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, তালেবানের হামলা কবলিত এলাকায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে অথচ আন্তর্জাতিক সমাজ এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।

আফগানিস্তানে অবস্থিত জাতিসংঘের দফতর 'ইউনামা' কুন্দুজে মার্কিন হামলার ঘটনার যে তদন্ত দাবি করেছে তা যদিও আফগান জনগণের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি দেয়ার নমুনা কিন্তু সেদেশের সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ কার্যকর সহায়তা করবে বলে আশা করছে আফগান সরকার ও জনগণ। অর্থাৎ তারা চায় জাতিসংঘ কেবল বিবৃতি বা লোক দেখানোর কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক।

আফগানিস্তান বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ও ইউনামার প্রধান তাদামিচি ইয়ামামোতো কুন্দুজে মার্কিন নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বেসামরিক মানুষ হত্যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং এর ফলে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।

কিন্তু আফগানিস্তানে অবস্থিত বিদেশি সেনা মুখপাত্র চার্লস ক্লেবল্যান্ড বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে কেবলমাত্র ওই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি এটাকে অবধারিত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে অর্থাৎ এ ধরণের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, তালেবানরা সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কথা কেউ জানতে পারছে না

আফগানিস্তানের জনগণ মনে করেন, হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মার্কিন সেনা কমান্ডার যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা দিয়ে তারা অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত রাখতে পারেন ন। কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মার্কিন সেনাদের দায়িত্ব হচ্ছে দখলীকৃত এলাকায় বেসামরিক মানুষদের রক্ষা করা। এ ছাড়া, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মার্কিন সেনা বাহিনীর যে সমঝোতা হয়েছে তাতেও বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক এলাকা রক্ষার ব্যাপারে আমেরিকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি যে কোনো হামলা চালানোর আগে আফগান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে আমেরিকাকে। এর অন্যথায় মার্কিন হামলাকে আফগানিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। #  

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৭