শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পরমাণু চুক্তি সই করল জাপান ও ভারত
-
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে (ডানে)
শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পরমাণু চুক্তি সই করেছে এশিয়ার দুই শক্তি জাপান এবং ভারত। এ চুক্তি সইয়ের কারণে এখন টোকিও নয়াদিল্লির কাছে বেসামরিক পরমাণু চুল্লি, প্রযুক্তি ও জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে।
জাপান হচ্ছে পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি বা এনপিটি-তে সই করা একটি দেশ। অন্যদিকে, বিশ্বের যেসব দেশ এনপিটি-তে সই করে নি ভারত হচ্ছে তার অন্যতম।
টোকিও সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে আজ (শুক্রবার) বিতর্কিত এ চুক্তিতে সই করেন। যদিও চুক্তিটি শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে তবুও এ চুক্তিকে বিতর্কিত বলা হচ্ছে; কারণ ভারত এনপিটি-তে সই করে নি। ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে- জাপানের কাছ থেকে পরমাণু প্রযুক্তি ও জ্বালানি পাওয়ার পর ভারত তা সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন।
জাপানের সঙ্গে চুক্তি করার পর ভারত যেসব প্রযুক্তি পাবে তা দিয়ে দেশটি জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়া ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। তবে জাপানের লিখিত অনুমতি ছাড়া উঁচু মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না ভারত। টোকিও বলছে, ভারত এ চুক্তি লঙ্ঘন করে পরমাণু প্রযুক্তি সামরিক কাজে ব্যবহার করলে কিংবা পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালালে জাপান চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে দাবি করেছেন, পরমাণু অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার অবস্থান থেকে ভারতের সঙ্গে এ চুক্তি সই করা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তবে, চুক্তির বিরোধিতাকারীরা বলছেন, জাপান ও ভারতের এ পদক্ষেপের ফলে ঝুঁকির মুখে পড়বে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা। এছাড়া, অস্ত্র বিস্তারোধ চুক্তি বাস্তবায়নও বাধার মুখে পড়বে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১১