সিরিয়াকে সমর্থন দিতে পাইলট পাঠিয়েছে মিশর: রিপোর্ট
-
মিশরের একটি হেলিকপ্টার
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়াকে সমর্থন দেয়ার জন্য মিশর সরকার ১৮ জন হেলিকপ্টার পাইলটকে দামেস্কে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আগামী নতুন বছরের শুরুতে আরো ১৮ জন পাইলট পাঠাবে।
লেবাননের আস-সাফির পত্রিকা কয়েকটি আরব সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পত্রিকাটি বলেছে, গত ১২ নভেম্বর সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হামা শহরের একটি বিমানঘাঁটিতে এসব পাইলট পাঠিয়েছে মিশর। এছাড়া, গত মাস থেকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সশস্ত্র বাহিনীর সদরদপ্তরে মিশরের দু জন মেজর জেনারেল কাজ করছেন। তারা দক্ষিণের ফ্রন্টলাইন কুনেইত্রাসহ যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শন করছেন।
সিরিয়া ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আস-সাফির বলেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মিশরের একটি বিরাট সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে সিরিয়ায়। তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেবে এবং তা শুধু হামা শহরের বিমানঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
গত অক্টোবর মাসে সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর প্রধান মেজর জেনারেল আলী মামলুক একদিনের জন্য মিশর সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি মিশরের শীর্ষ পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরের সময় দু পক্ষ সমন্বিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে একমত হয়েছিল এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।
মাস খানেক আগে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শাকুরি ঘোষণা করেন যে, রিয়াদ ও কায়রো সিরিয়ার চলমান ঘটনাবলীতে একই রকমের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে না। তিনি সে সময় আরো বলেছিলেন, যদি সিরিয়ায় শান্তি আনতে হয় তাহলে সন্ত্রাসীরা আরব এ দেশটিতে থাকতে পারবে না।
অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা বিশেষ করে কাতার অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সিরিয়ার সরকারকে উৎখাতের জন্য উগ্র সন্ত্রাসীদেরকে মদদ দিচ্ছে। কিন্তু মিশরের কর্মকর্তারা বার বার জোর দিয়ে বলছেন, সিরিয়ার চলমান সংকট রাজনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে হবে। গত মঙ্গলবার মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আলে সিসি বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সমর্থন করেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে সমর্থন করার বিষয়ে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি; সেটি লিবিয়ার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনি তা সিরিয়া ও ইরাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”
সৌদি আরবের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার অর্থ সহায়তা নিলেও সিরিয়া ইস্যুতে রিয়াদের পক্ষ নিতে অস্বীকার করেছে কায়রো। এছাড়া, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেন হামলায় অংশ নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সে যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে মিশর।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২৫