সিরিয়ায় যুদ্ধাপরাধ: কী করবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i30250-সিরিয়ায়_যুদ্ধাপরাধ_কী_করবেন_জাতিসংঘের_নতুন_মহাসচিব
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেয়ার পর সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে বিশ্ব সংস্থাটি প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দামেস্কে পানির সরবরাহ লাইন কেটে দেয়ার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে। পরাজিত দায়েশ সন্ত্রাসীরা দামেস্কে পানি সরবরাহ লাইন কেটে দিয়েছে। জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেসের দায়িত্ব নেয়ার পর দায়েশকে এ নিন্দা জানানো হলো।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ০৬, ২০১৭ ১৪:০২ Asia/Dhaka
  • সিরিয়ায় যুদ্ধাপরাধ:  কী করবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব?

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেয়ার পর সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে বিশ্ব সংস্থাটি প্রথম প্রতিক্রিয়ায় দামেস্কে পানির সরবরাহ লাইন কেটে দেয়ার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে। পরাজিত দায়েশ সন্ত্রাসীরা দামেস্কে পানি সরবরাহ লাইন কেটে দিয়েছে। জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেসের দায়িত্ব নেয়ার পর দায়েশকে এ নিন্দা জানানো হলো।

সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের ত্রাণ কমিটির প্রধান ইয়ান আগলান্দ দামেস্কের পানি সরবরাহ লাইন বন্ধের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এটা নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধ। কারণ এ পানি দামেস্কের সাধারণ মানুষের জন্য।

সিরিয়ায় ছয় বছর ধরে চলা যুদ্ধের শেষ পর্যায় অতিবাহিত হচ্ছে। চাপিয়ে দেয়া এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে এবং প্রায় এক কোটি বিশ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৮০টি দেশ থেকে সন্ত্রাসীদেরকে জড়ো করে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল এবং এ অন্যায় কাজে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা, তুরস্কসহ পাশ্চাত্য ও রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলো। এ দেশগুলো সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে যে জঘন্য হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং শান্তি ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।

বান কি মুন জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে এ সংস্থা কেবল পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ সংস্থা শুধু বৃহৎ শক্তিগুলোর অসৎ লক্ষ্য উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করেছে। সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে বান কি মুনের কর্মকাণ্ডের ফলে এ সংস্থা বিশ্বের দেশগুলোর আস্থা হারিয়েছে এবং এর মর্যাদাও ক্ষুন্ন হয়েছে। এমনকি যদি বলা হয় জাতিসংঘ সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়েছে তাতেও ভুল বলা হবে না।

গত প্রায় ১৪ দিন হলো জাবহাত ফাতেহ আশ-শাম সন্ত্রাসী গ্রুপ দামেস্কের পানি সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ দামেস্কের প্রায় ৭০ শতাংশ পানির যোগান আসে ওই সরবরাহ লাইন থেকে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ মহাসচিব কি পদক্ষেপ নেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসীদের পানি সরবরাহ লাইন কেটে দেয়ার পদক্ষেপকে জাতিসংঘ মহাসচিব যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করার পর এখন তার ভূমিকা কি হবে সেটাই সবার প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, জাতিসংঘের নতুন মহাসচিবের উচিৎ হবে না সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের মতো পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। নতুন মহাসচিব চাইলে সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে পারেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের উচিৎ হবে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোর নেতাদের বিশেষ করে আমেরিকার নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তাকে রাজি করানো। এর পাশাপাশি পানির লাইন কেটে দেয়াসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে উত্থাপন করা।

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব যদি নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তুলতে না পারেন তাহলে অন্তত তিনি নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কাজটি করতে পারেন। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত স্বাধীনভাবেই তদন্ত ও বিচারিক কাজ করে বলে সুনাম রয়েছে। তাই সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে ওই আদালত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।#

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৬