উত্তর কোরিয়ার নেতার সৎ ভাই মালয়েশিয়ায় নিহত
-
কিম জং-ন্যাম (ফাইল ছবি)
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎ ভাই কিম জং-ন্যাম মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে নিহত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, ন্যাম যখন বিমানবন্দরে ম্যাকাউ যাওয়ার জন্য বিমানে ওঠার অপেক্ষা করছিলেন তখন এক নারী তরল দাহ্য পদার্থবাহী একটি কাপড় দিয়ে তার মুখ ঢেকে দেয়। এতে তার দুই চোখ ঝলসে যায়।
কিম জং-ন্যাম এ সময় ভিন্ন নামের পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের এই জেষ্ঠ্য সন্তানকে ডিঙিয়ে তার ছোট ভাই কিম জং-উনকে নেতার দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন।
কিম জং-ন্যামের ওপর কে বা কারা এবং কীভাবে হামলা করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ বলছে, ন্যাম প্রথম একজন রিসেপশনিস্টকে গিয়ে বলেন, “কেউ পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার মুখে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দিয়েছে।”
এর আগের খবরে বলা হয়েছিল, তরল দাহ্য পদার্থটি ন্যামের মুখে ঢালার জন্য স্প্রে অথবা ইনজেশনের সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুখমণ্ডল পুড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। সম্ভাব্য হামলাকারীকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম দাবি করেছে, দুই নারী ওই হামলা চালিয়ে একটি ট্যাক্সিতে করে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এসব গণমাধ্যম ওই দুই নারীকে ‘উত্তর কোরিয়ার চর’ বলে অভিহিত করেছে।
উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের বড় ছেলে ছিলেন কিম জং-ন্যাম। অনেকে মনে করতেন ইলের মৃত্যুর পর ন্যাম হবে দেশটির পরবর্তী নেতা। কিন্তু ইল জীবদ্দশায় ছোট ছেলে উনকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করার পর ন্যাম দেশ থেকে পালিয়ে যান।
২০০১ সালে উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করার পর থেকে জীবনের বেশিরভাগ সময় ধরে দক্ষিণ চীন সাগরের ম্যাকাউ দ্বীপে বসবাস করছিলেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিজের ছোট ভাই’র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছিলেন কিম জং-ন্যাম। এর আগেও তাকে হত্যা প্রচেষ্টার একাধিক অসমর্থিত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৫