ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে বিদায় নিলেন মিসবাহ-ইউনুস
-
সতীর্থদের কাঁধে চড়ে মাঠ ছাড়েন মিসবাহ-উল হক ও ইউনিস খান
ডোমিনিকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। এ মাধ্যমে ৫৯ বছরের ব্যর্থতার বলয় ভেঙে ক্যারিবীয় মাটিতে জয়ের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মিসবাহ-উল হকের দল। সেইসঙ্গে শেষ ম্যাচে জয় নিয়েই ক্যারিয়ার শেষ করলেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি মিসবাহ উল হক ও ইউনিস খান।
জয়ের জন্য রোববার ডোমিনিকা পার্কে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিন পাকিস্তানের দরকার ছিল ৯ উইকেট। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৭ রান। সিরিজে ইয়াসিরের তৃতীয় পাঁচ উইকেটে সেই লক্ষ্যে পৌঁছায় পাকিস্তান। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান রোস্টন চেজের দুর্দান্ত শতকও বাঁচাতে পারেনি স্বাগতিকদের। আর মাত্র একটি ওভার টিকতে পারলেই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত দলটি।
শেষ ওভারের আগের ওভারে পঞ্চম বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে সরাসরি বোল্ড করে জয় উদযাপন করেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করে ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন চেজ।
চেজের ইনিংস ছাড়া ক্যারিবীয় আর কোনো ব্যাটসম্যানই ২৫ রানের বেশি করতে পারেনি। ৩০৩ রানের টার্গেটে শেষ পর্যন্ত ২০২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
বীরোচিত ইনিংস খেলা চেজকে অবশ্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেয়া হয়। তবে পুরো সিরিজে দারুণ বল করা ইয়াসির পান সিরিজ সেরার পুরস্কার। কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে খুশি মনেই মাঠ ছেড়েছেন অধিনায়ক মিসবাহ ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইউনিস।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তৃপ্ত মিসবাহ
বিদায়ী ভাষণে মিসবাহ বলেছেন, ‘নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আমি তৃপ্ত। আর কী শেষটাই না হলো! এর চেয়ে ভালোভাবে শেষ হতে পারত না। দল, সতীর্থ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই তারা যেভাবে আমাকে আর ইউনিসকে বিদায় জানাল। ইউনিসকেও স্পেশাল ধন্যবাদ, ওর পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা। ওর সঙ্গে এ ছিল আমার দারুণ দীর্ঘ এক যাত্রা।’
এই জয়ে মিসবাহ হয়ে গেলেন প্রথম পাকিস্তানি অধিনায়ক যিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে টেস্ট সিরিজের ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছেন। ১৯৫৮ সাল থেকে এই একটা ট্রফি অধরাই ছিল পাকিস্তানের।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫