সিরিয়া নিয়ে ফ্রান্সের অবস্থানে বিস্ময়কর পরিবর্তন: প্রমাণ হল পাশ্চাত্যই ভুল করেছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i40696-সিরিয়া_নিয়ে_ফ্রান্সের_অবস্থানে_বিস্ময়কর_পরিবর্তন_প্রমাণ_হল_পাশ্চাত্যই_ভুল_করেছে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেছেন, তার দেশ এখন আর সিরিয়ার চলমান সংকট নিরসনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি চায় না। তিনি বলেন, ফ্রান্স সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নয়। কারণ, আমাকে কেউ আসাদের বৈধ কোনো উত্তরসূরি দেখাতে পারেননি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ২২, ২০১৭ ১৪:০৯ Asia/Dhaka

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বলেছেন, তার দেশ এখন আর সিরিয়ার চলমান সংকট নিরসনের পূর্বশর্ত হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি চায় না। তিনি বলেন, ফ্রান্স সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নয়। কারণ, আমাকে কেউ আসাদের বৈধ কোনো উত্তরসূরি দেখাতে পারেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী দেশ হিসাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্যারিস বাশার আল আসাদের ব্যাপারে পূর্বের নীতি থেকে সরে এসেছে। অর্থাৎ সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে পাশ্চাত্য যে ভুল নীতির অনুসরণ করছে সেটাকেই স্বীকার করে নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই এবং এ ক্ষেত্রে রাশিয়াকে সহযোগিতা করা জরুরি। সিরিয়া সরকারের পতন ঠেকানো আমাদের আরেকটি প্রধান নীতি উল্লেখ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, এ সংকট সমাধানের জন্য একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক রোডম্যাপ প্রয়োজন।

ইরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক করিম পকযাদ বলেছেন, "ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বর্তমানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সিরিয়ার ব্যাপারে ইমানুয়েল মনে করেন, যদিও প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের দিকে ঝুঁকে পড়া বা তাকে সমর্থন করা যায় না কিন্তু শান্তি আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসাবে তার পদত্যাগের দাবিও সঠিক নয়।"

ইউরোপের সবচেয়ে প্রভাবশালী দু'টি দেশ ফ্রান্স ও ব্রিটেন ২০১১ সালে সিরিয়ার বৈধ সরকার উৎখাতের জন্য পাশ্চাত্য ও কয়েকটি আরব দেশকে নিয়ে তথাকথিত আন্তর্জাতিক জোট গঠন করেছিল। এই জোট প্রেসিডেন্ট আসাদকে উৎখাতের জন্য সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সব রকম সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। সন্ত্রাসীদের বিপুল অর্থ ও অস্ত্র যুগিয়ে তারা প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তি অর্থাৎ সিরিয়ার পতন ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। এরপর তাদের টার্গেট ছিল লেবাননের হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা। আর এসব কিছুর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করা ও দেশটিকে একঘরে করে ফেলা। কিন্তু সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ বাধিয়েও তাদের কোনো লাভ হয়নি।

বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি সিরিয়া সরকার ও তার মিত্র দেশগুলোর অনুকূলে রয়েছে। সিয়িরার সেনা ও মিত্র বাহিনী আলেপ্পোসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মুক্ত করার পর বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ার সরকার ও তার মিত্রদের অর্থাৎ রাশিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশ সম্প্রতি দায়েশ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্যারিসের অবস্থান নেয়ার কথা জানিয়েছেন। সিরিয়ার সরকার ও তার মিত্র দেশগুলো বিশেষ করে রাশিয়া এর আগে বহুবার বলেছে, সিরিয়ায় আসাদের কোনো বিকল্প নেই কারণ তাকফিরি সন্ত্রাসীরা বিজয়ী হলে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে শুরু হবে ক্ষমতা দখলের লড়াই।

যাইহোক, এসব দিক বিবেচনা করেই হয়তো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সিরিয়া বিষয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।# 

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২২