আমেরিকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বর্ণবাদ: রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকম্প
https://parstoday.ir/bn/news/world-i44502-আমেরিকায়_মাথাচাড়া_দিয়ে_উঠছে_বর্ণবাদ_রাজনৈতিক_অঙ্গনে_ভূমিকম্প
আমেরিকার হাজার হাজার মানুষ বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। আমেরিকার বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গদের সমর্থকরা কথিত বাকস্বাধীনতার কথা বলে মিছিলের ডাক দেয়ায় তার প্রতিবাদে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, প্রায় ১৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
আগস্ট ২০, ২০১৭ ১৪:৩৭ Asia/Dhaka

আমেরিকার হাজার হাজার মানুষ বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। আমেরিকার বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গদের সমর্থকরা কথিত বাকস্বাধীনতার কথা বলে মিছিলের ডাক দেয়ায় তার প্রতিবাদে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, প্রায় ১৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থার প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোনো কোনো বিক্ষোভকারী পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলে অভিহিত করেছেন। উগ্র বর্ণবাদীদের হাতে এক মহিলা নিহত হওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে আমেরিকার শর্লটসউইলে টাউনে গোলযোগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনা ও সহিংসতাপূর্ণ পরিস্থিতি আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অনেক বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবিবেচনাসূলভ নানা মন্তব্যে জনমনে যে কঠোর প্রতিক্রিয়া হয়েছে তাকে সেদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাট ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রধান পরিকল্পনাবিদ স্টিভ ব্যানোনকে অপসারণ করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বর্ণবাদী ও উগ্রপন্থী হিসেবে স্টিভ ব্যানোন ছিলেন ট্রাম্পের অন্যতম সহযোগী এবং তিনি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী করার জন্য বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শর্লটসউইলে টাউনের ঘটনাকে উগ্র বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গদের তৎপরতার সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে এটা সেদেশে বর্ণবাদী যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। আমেরিকার গত ২০০ বছরের ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বর্ণবাদ সেদেশের বহু পুরানো সমস্যা। এমনকি উত্তর ও দক্ষিণের যুদ্ধ নামে যে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তার পেছনেও ছিল ওই বর্ণবাদী সংকট। প্রখ্যাত মার্কিন চিন্তাবিদ শ্যামুয়েল হান্টিংটন তার 'সভ্যতাগুলোর মধ্যে সংঘাত' শীর্ষক গ্রন্থে এ ধরণের সংঘাত ও সহিংসতার ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। তার ওই মন্তব্য ও মার্কিন সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, সেদেশে বর্ণবিদ্বেষ এবং এ নিয়ে উত্তেজনা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

শর্লটসউইলে টাউনে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের আস্ফালন এবং এর জের ধরে পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে বর্ণবাদ বিরোধীদের সংঘর্ষের ঘটনা থেকে বোঝা যায় মার্কিন সমাজে নতুন করে বিভেদের প্রাচীর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ ও উগ্র জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ভরশীলতা। কুকলাকেসের মতো কট্টর কৃষ্ণাঙ্গ বিরোধী নেতাদের স্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের সমাবেশে উপস্থিতি প্রমাণ করে মার্কিন সমাজে ফ্যাসিজম চরম আকার ধারণ করেছে এবং ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর হোয়াইট হাউজেও তারা জায়গা করে নিতে পেরেছে। এ প্রসংগে মার্কিন সাময়িকী নিউইয়র্কার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, 'বর্তমানে আমেরিকায় ৯০০টি উগ্র বর্ণবাদী গ্রুপ তৎপর রয়েছে।'

অনেক বিশ্লেষকের মতে, আমেরিকান সমাজে বর্ণবৈষম্য ও বর্ণ-বিভেদ যদি এখনই রোধ করা না যায় তাহলে 'হিস্পানিক' নামে পরিচিত স্পেনিয় বংশোদ্ভুদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হুমকির মুখে পড়বে। এ কারণে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল এক বিবৃতিতে, শর্লটসউইলে টাউনে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যন্থনিও গুতেরেস বর্ণবাদ ইস্যুতে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বর্ণবাদী আচরণ ও বিদেশি বিরোধী মনোভাব মার্কিন সমাজকে বিষিয়ে তুলবে। বোস্টনের স্থানীয় কর্মকর্তা স্টিফেন হ্যামার বলেছেন, বর্ণবাদী স্বেতাঙ্গদের বিক্ষোভ অস্বেতাঙ্গ ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণাকে উস্কে দেবে। এ অবস্থায় অনেকে মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যতদিন হোয়াইট হাউজে আছেন ততদিন তিনি উগ্র বর্ণবাদী ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন এমনটি আশা করা যায় না।#

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২০