রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যাকাণ্ড; নীরব পাশ্চাত্য: মুসলিম দেশগুলোই পারে এগিয়ে আসতে
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য বেশ ক'জন রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশের সময় অভিন্ন নাফ নদীতে প্রাণ হারিয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, অন্তত ১১টি শিশু ও ১৫ নারী নাফ নদীতে প্রাণ হারিয়েছে। এদিকে, জাতিসংঘও জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ২৬০০ এরও বেশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইসসিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে সম্প্রতি প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমার সরকার ফের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা শুরু করার পর নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ সত্বেও মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে, রোহিঙ্গা অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্যই সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, খোদ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে মুসলমানদের ওপর সহিংসতা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধরাও মুসলিম গণহত্যা ও ধর্ষণে জড়িত রয়েছে। নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের অনেকে নৌকা ডুবে কিংবা সাগরে ও জঙ্গলে না খেতে পেয়ে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার সরকার আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করার পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমস্যার সমাধান হবে বলে ব্যাপকভাবে ধারনা করা হচ্ছিল। কিন্তু মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের কোনো নাগরিক সুযোগ সুবিধা না দিয়ে বরং তাদের ওপর হত্যা ও দমনপীড়ন জোরদার করেছে। জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক ম্যারি লাল মনে করেন, মিয়ানমারে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে তা সেদেশের জনগণের একটি অংশের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখলেও দূরবর্তী গ্রাম ও অন্যান্য এলাকার মানুষ এর সুফল পায়নি এবং সংখ্যালঘুদের কোনো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
একদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা শুরু করেছে অন্যদিকে দেশটির সংস্কার কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক সুবিধা হারানোর ভয়ে ও দেশটির পক্ষ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় পাশ্চাত্যও সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। পাশ্চাত্য যেখানেই তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন বোধ করে সেখানেই কেবল সরব হতে দেখা যায় এবং মানবাধিকার নিয়ে মায়াকান্না দেখায়। এ কারণে মিয়ানমারে হাজার হাজার নারি, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হলেও পাশ্চাত্য সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।
যাইহোক, কেবলমাত্র মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ও দৃঢ় নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হাত থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৩