রাখাইনে ত্রাণ তৎপরতা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে জাতিসংঘের সব সংস্থার ত্রাণ তৎপরতা বন্ধ করে দিয়েছে অং সান সুকির সরকার। সামরিক অভিযানে বাস্তুহারা হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য, পানি এবং ওষুধ বিতরণে নিয়োজিত ছিল এ সব সংস্থা।
গত মাসের ২৫ তারিখে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কথিত হামলার অজুহাতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করে। এতে শত শত মুসলমান নিহত হওয়ার পর জাতিসংঘের ত্রাণ তৎপরতা বন্ধ করে দেয়া হয়।
মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এটি ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ও সরেজমিন পরিদর্শনের ওপর মিয়ানমার সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করায় জাতিসংঘের পক্ষে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে মাঠ পর্যায়ে কোনো যোগাযোগ রাখছে না জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এবং ইউনিসেফ। ত্রাণ তৎপরতাকে বিপজ্জনক ভাবে বন্ধ করে দেয়ায় প্রাণরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ ছাড়া, রাখাইন প্রদেশের অন্যান্য এলাকায়ও তৎপরতা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। এতে আড়াই লাখ মানুষের নিয়মিত খাদ্যে যোগান বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, মানবিক তৎপরতা পুনরায় শুরুর জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা দেখা দিয়েছে রাখাইন প্রদেশে। গার্ডিয়ান বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মধ্যে অনেক গুলিতে আহত ব্যক্তিও রয়েছেন।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/৫