মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে ইরানের প্রেসটিভি
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা এবং নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেসটিভি। এখানে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরা হলো।
এতে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তুলে ধরা হয়, রোহিঙ্গা বিরোধী গণহত্যার ক্ষেত্রে বিশ্বের নীরবতার বিষয়টিও ।
ভিডিও ফুটেজের শুরু হয়েছে নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করতে যেয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারানো রোহিঙ্গাদের বিবরণ দিয়ে। এতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরপরই দেখানো হয়েছে নৌকাডুবিতে মৃত রোহিঙ্গাদের লাশের সারি। ধারা বর্ণনাকারীর কণ্ঠে শোনা গেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করতে যেয়ে নৌকাডুবিতে মারা যে সব হতভাগ্য রোহিঙ্গা এ হলো তাদেরই লাশ। যারা এ লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তারাও রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে চলমান গণহত্যার হাত থেকে বেঁচে গেছে তারা। কিন্তু বিশ্ব রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নীরব রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসনের বক্তব্য ফুটেজে রয়েছে। তিনি মিয়ানমার সরকারকে চলমান হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান। ব্রিটেনের বার্মিজ রোহিঙ্গা সংস্থার তুন খেইনের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে এ ভিডিও ফুটেছে। তিনি বলেছেন, কেউ কেউ বলছে মিয়ানমারে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, ২৭ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকতে পেরেছে। এ ছাড়া, মিয়ানমার থেকে বিপদজ্জনক যাত্রা শুরুর পর অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা এখনো আশ্রয়হীন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। বাংলাদেশ তাদেরকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুর মধ্য দিয়ে মানবাধিকার নিয়ে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি আবারো ফুটে উঠেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের নানা সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও মাঝে মাঝে উঠে আসে। কিন্তু এ সত্ত্বেও বিশ্বসংস্থাটি রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয় নিয়ে প্রায় নীরবই রয়ে গেছে।
শান্তিতে নোবেলবিজয়ী মিয়ানমারের অং সান সুকিকে এ ভিডিওতে 'ভণ্ড' হিসেবে উল্লেখ করা রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার নীরবতার কথা ব্যক্ত করতে যেয়ে এ অভিধায় চিহ্নিত করা হয় তাকে।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/৫