মিয়ানমারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i45441-মিয়ানমারে_মুসলিম_নিধনযজ্ঞ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ জাওয়াদ জারিপ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবারও বলেছেন,খুব বেশি দেরি হয়ে যাবার আগেই বিশ্ব সমাজের উচিত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।
(last modified 2026-04-22T07:21:27+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৭ ১৩:০৯ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ জাওয়াদ জারিপ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবারও বলেছেন,খুব বেশি দেরি হয়ে যাবার আগেই বিশ্ব সমাজের উচিত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।

তিনি এক টুইট বার্তায় গতকাল বলেছেন, বিশ্ববাসীর চোখের সামনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে যাবার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নতুন করে চালানো দমনপীড়নে মানবাধিকারের প্রবক্তারাও প্রতিবাদ জানিয়েছে যদিও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় নি। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচিকে যারা একদিন নোবেল শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করেছিল তারা আজ তার অর্থবহ নীরবতা চেয়ে চেয়ে দেখছে। সুচি কদিন আগে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর ক্ষেত্রে কার্যত সেনাবাহিনীকে পৃষ্টপোষকতা দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিশ্বের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। রাখাইনে মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞে ছবি দেখলেই মনে হবে সেখানে মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধযজ্ঞ চলছে, চলছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জাতিগত নিধন অভিযান। পুড়িয়ে মারা, মাথা কেটে ফেলা, মুসলিম নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো-এইসব অপরাধযজ্ঞ কোনো ধর্মেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারপরও বিশ্ব সমাজ, মিয়ানমারের প্রতিবেশি দেশগুলো, জাতিসংঘ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ওআইসি’র নিষ্ক্রিয় ভূমিকা মানবতার মৃত্যুরই শামিল। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা বন্ধ করার মতো শক্তি ও সামর্থ ব্যাপক রয়েছে ঠিকই কিন্তু মানবাধিকার ও বিশ্ব শান্তি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলোর কর্ণধারদের রাজনৈতিক দৃষ্টি ওই সংস্থাগুলোকে অকার্যকর করে ফেলেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়ে যেতে উৎসাহী হয়ে উঠেছে। অপরদিকে অং সান সুচিও ওই গণহত্যা দেখে নীরব রয়েছে। সুতরাং মানবাধিকার রক্ষার দাবিদার সংস্থাগুলোর কাছে আবারও বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের ভিত্তিগুলো যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়। শান্তিতে নোবেলধারীর চোখের মুসলমানদের ওপর যেভাবে গণহত্যা চালানো হচ্ছে তাতে মানবাধিকার যে একটা বুলি এবং সেটাকে যে একটা হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করা হয় তা আবারও প্রমাণ হলো।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলমান বিপর্যয়ে জাতিসংঘ এবং ইসলামি সহযোগিতা পরিষদ বা ওআইসি’কে অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সংখ্যালঘু নির্মূল বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে যে সংখ্যালঘুদের শেকড় মিয়ানমারের মাটির গভীরে প্রোথিত।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৮