রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক গণআদালতে সু চি ও সেনাপ্রধান দোষী সাব্যস্ত
https://parstoday.ir/bn/news/world-i46331-রোহিঙ্গা_গণহত্যা_আন্তর্জাতিক_গণআদালতে_সু_চি_ও_সেনাপ্রধান_দোষী_সাব্যস্ত
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং লাইংসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি আন্তর্জাতিক গণআদালত। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রতিষ্ঠিত ‘পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এর আট সদস্যের বিচারক প্যানেল আজ (শুক্রবার) সকালে এ রায় দেন।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ ১১:২৯ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং সেনাপ্রধান মিন অং লাইং করমর্দন করছেন
    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং সেনাপ্রধান মিন অং লাইং করমর্দন করছেন

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং লাইংসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি আন্তর্জাতিক গণআদালত। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রতিষ্ঠিত ‘পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এর আট সদস্যের বিচারক প্যানেল আজ (শুক্রবার) সকালে এ রায় দেন।

গণআদালতের এ রায় জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যানেল অংশ নেয়।

শুনানিতে রোহিঙ্গা ও কাচিন সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অপরাধের বর্ণনা দেন। আদালতে আমেরিকার জর্জ মাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোসাইড স্ট্যাডিজ অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য বৌদ্ধ মিলিশিয়া এবং দেশটির বর্তমান বেসামরিক সরকার অভিযুক্ত। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা মিয়ানমারের সর্বস্তরে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার।

শুনানিতে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন আদালতের মুখ্য কৌঁসুলি দেরিন চেন ও উপ-মুখ্য কৌঁসুলি আজরিল মোহাম্মদ আমিন।

ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারে মুসলিম নিপীড়ন বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমাপনী বক্তব্য শেষে বিবাদী পক্ষ বক্তব্য রাখেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিনভর বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা তাদের বক্তব্য পেশ করেন। রায়ের খসড়া নিয়ে তারা পর্যালোচনা করেন।

১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল রোমভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংগঠন। ল্যাটিন আমেরিকার স্বৈরশাসকদের বিচারের জন্য যে রাসেল ট্রাইব্যুনাল হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তারা ৪৩টি অধিবেশনে মিলিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে। এই ট্রাইব্যুনালের বিচার এবং রায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত করা। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। এই ট্রাইব্যুনালে রোহিঙ্গা ছাড়া মিয়ানমারের অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২