মিয়ানমারের জেনারেলরা ইউরোপে নিষিদ্ধ, সামরিক চুক্তি পর্যালোচনার হুমকি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i47598-মিয়ানমারের_জেনারেলরা_ইউরোপে_নিষিদ্ধ_সামরিক_চুক্তি_পর্যালোচনার_হুমকি
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করেছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
অক্টোবর ১৬, ২০১৭ ২৩:৫৪ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সির অং সান সু চি ও  ইইউ-র বৈদেশিকনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি
    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সির অং সান সু চি ও ইইউ-র বৈদেশিকনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করেছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট।

সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও অং সান সু চি

বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের আলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের সব আমন্ত্রণ স্থগিত করবে। পদক্ষেপগুলো নেয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এছাড়া, মিয়ানমারে সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর রয়েছে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি, তা পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিল।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের তথ্য অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে ২৮ দেশভুক্ত ইইউ তা মেনে নেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন ও বর্বর হামলার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে হবে। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে অবাধে অবিলম্বে রাখাইনে তদন্তের সুযোগ দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে আগুন

বিবৃতিতে বলা হয়, “রাখাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এখনও সেখানে অগ্নিসংযোগ, জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। নির্বিচারে গুলি করা হচ্ছে, বসানো হয়েছে স্থলমাইন। নারীদের ওপর নিপীড়ন চলছে। এটা মেনে নেয়া হবে না এবং অবিলম্বে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ৫ লাখের বেশি মানুষের দেশত্যাগ দৃঢ়ভাবে এ ইঙ্গিত দেয়, সংখ্যালঘুদের বিতাড়নের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে হবে। রাখাইনে জাতিসংঘ, রেডক্রসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণ বাস্তবায়ন তথা দেশহীন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। এ কাজে তারা মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

নিজ ভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা

বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের তাদের আদি নিবাসে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক তৈরির জন্য নেপিডোকে পরামর্শ দেয়া হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গঠনমূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দেশটির প্রশংসা করা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭