কুদস নিয়ে ট্রাম্পের নীতি এবং ওআইসি'র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i49405-কুদস_নিয়ে_ট্রাম্পের_নীতি_এবং_ওআইসি'র_প্রতিক্রিয়া
জেরুজালেম খ্যাত আল-কুদস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুশিয়ারি দিলো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি। ওআইসি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে তেলআবিব থেকে পবিত্র কুদসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করাকে মুসলিম দেশে "সুস্পষ্ট আগ্রাসন" বলে এই সংস্থা মনে করে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭ ১৪:৫৬ Asia/Dhaka

জেরুজালেম খ্যাত আল-কুদস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুশিয়ারি দিলো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি। ওআইসি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে তেলআবিব থেকে পবিত্র কুদসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করাকে মুসলিম দেশে "সুস্পষ্ট আগ্রাসন" বলে এই সংস্থা মনে করে।

যেসব দেশ কুদসে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারও আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি।

সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন ট্রাম্প শীঘ্রই তেলআবিবকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন এবং কুদস শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারেন। এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় গতরাতেই আবার হোয়াইট হাউজ বলেছে এ ব্যাপারে ব্যাপারে ট্রাম্প এক্ষুণি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। এটাকে আমেরিকার পিছু হটে যাওয়া বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও নির্বাচনের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন নির্বাচিত হলে কুদসে রাজধানী স্থানান্তর করবেন। ওই ঘোষণায় হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পও ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে যাবার পর বহুবার ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে পিছু হটে এসেছেন।

ওআইসি

১৯৯৫ সালে মার্কিন কংগ্রেসে,বায়তুল মোকাদ্দাসে আমেরিকার দূতাবাস স্থানান্তরের বিল পাস হয়। কিন্তু বিল ক্লিন্টন কিংবা বারাক ওবামাও ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন নি গণরোষ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে। সুতরাং ট্রাম্প যদি কোনো কিছু বিবেচনায় না নিয়ে সেই কাজটি করেই বসে তাহলে নি:সন্দেহে সেটা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে। কেননা ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।

জাতিসংঘও ইসরাইলকে "দখলদার শক্তি" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংখ্যাগুরু সদস্যের রায়ের মাধ্যমে গৃহীত ওই প্রস্তাব অনুযায়ী কুদস শহরের সঙ্গে ইসরাইলের কোনো সম্পর্ক নেই। কুদসের ব্যাপারে তাই ইহুদিবাদী ওই সরকারের যে-কোনো সিদ্ধান্তই অবৈধ এবং পরিত্যাজ্য। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ চায় না কুদস শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করা হোক।

সুতরাং ট্রাম্প যদি জনমতের বাইরে গিয়ে দূতাবাস স্থানান্তরের মতো কাজ করেই বসে তাহলে আমেরিকাকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৫