বায়তুল মুকাদ্দাস: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিণামে কী ঘটতে পারে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i49503-বায়তুল_মুকাদ্দাস_ট্রাম্পের_সিদ্ধান্তের_পরিণামে_কী_ঘটতে_পারে
মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিঃসন্দেহে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। প্রথমত, শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বহু দিন ধরেই শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন। এক কথায় বলা যায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭ ১৩:৫৭ Asia/Dhaka

মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিঃসন্দেহে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। প্রথমত, শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বহু দিন ধরেই শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন। এক কথায় বলা যায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না।

মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থিত

দ্বিতীয়ত, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণার কবর রচিত হওয়া। কারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস। 

তৃতীয়ত, ট্রাম্পের ধারণার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী তৎপরতা আরও বাড়বে। ট্রাম্প ধারণা করছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রভাবশালী আরব দেশগুলোর সরকার তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব দেশের প্রতিবাদ বেশি দূর এগোবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হয়তো এ তথ্য জানা নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার ও জনগণের নীতি-আদর্শ ও সাহসিকতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ২০১১ সালে মিশরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীই উদাহরণ হিসেবে যথেষ্ট। প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে মিশর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করে। কিন্তু দেশটির মানুষ কখনোই ওই চুক্তি মেনে নিতে পারে নি। এ কারণে ২০১১ সালে ইসলামি গণজাগরণের পর কায়রোতে অবস্থিত ইসরাইলের দূতাবাসের কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জনতা। এ ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ শুধুই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সুযোগ পেলে তারাই ইসরাইলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে। 

চতুর্থত, ফিলিস্তিন ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মতৈক্য তৈরি হবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকেও বিষয়টি অনুমান করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় কোনো কোনো মুসলিম দেশে ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

এসবের বাইরেও আরেকটি প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে তাহলো, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া কুদস ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান জোরদার হবে। এমনকি নতুন যুদ্ধের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গতরাতে গাজা ও পশ্চিমতীরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ শু্রু করেছে এবং মার্কিন পতাকায় আগুন দিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হবে। 

আসলে ট্রাম্পের গতরাতের সিদ্ধান্ত থেকে এটা স্পষ্ট তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এর পরিণামের বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালনের পরও তার মধ্যে এ অনুভূতি জাগ্রত হয় নি যে, তিনি এমন একটি পদে আসীন হয়েছেন যেখান থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত গোটা বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে পারে।#

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/৭