উত্তর সিরিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উত্তর সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র চলে যাওয়ায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত আন্তর্জাতিক জোট গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল, তারা সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে ৩০ হাজারের একটি বিশাল সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করবে যে বাহিনীতে সিরিয়ার বহু কুর্দি গেরিলা থাকবে। দৃশ্যত ওয়াশিংটনের ওই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
মার্কিন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে সিরিয়ার অনুমতি ছাড়াই দেশটিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সিরিয়ায় তার দেশের বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর কাছে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত চার হাজার ৫০০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রসস্ত্র ও সামরিক যান পাঠিয়েছে।
উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে আমেরিকা সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করেছিল বলে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর পতনের পর যে প্রশ্নটি বড় আকারে দেখা দিয়েছে তা হলো, এখন কি অজুহাতে সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য ওয়াশিংটন দাবি করছে, দায়েশ যাতে আবার শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে সে লক্ষ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে সিরিয়ায় ৩০ হাজার সীমান্তরক্ষী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়ে মার্কিন সরকার রাশিয়াকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, সিরিয়াকে মস্কোর একার হাতে ছেড়ে দেবে না ওয়াশিংটন। সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে স্বাগতিক দেশের পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়াকে নিয়ে যে ত্রিপক্ষীয় জোট গঠিত হয়েছে আমেরিকা চায় তার মোকাবিলা করতে।
অবশ্য রাশিয়া মৌখিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আপাতত দায়িত্ব শেষ করলেও মার্কিন ঘোষণার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিয়েছে তুরস্ক। দেশটি সিরিয়ার আফরিন এলাকায় তৎপর কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে।
এ সম্পর্কে মার্কিন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রিচার্ড ওয়েট্য বলেছেন, তুরস্কের এই সামরিক অভিযান মোকাবিলা করার জন্য ওয়াশিংটন পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলে মনে হয় না।
তবে রাশিয়া দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করছে যে, মার্কিন সরকার যেকোনো অজুহাতে সিরিয়ায় নিজের অবৈধ সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়। রুশ পর্যবেক্ষক ভিচিস্লাভ ম্যাতাজোভ এ সম্পর্কে মনে করেন, সিরিয়ায় নতুন কোনো ফ্রন্ট খুলতে চায় না রাশিয়া। তবে রাশিয়ার এই নীরবতার অর্থ এই নয় যে, দেশটি সিরিয়ায় তৎপর কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কুর্দিদের সঙ্গে তুর্কি সরকারের সংঘাতের আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যাবে যার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২১