আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা উচিত: জাতিসংঘ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i54209-আন্তর্জাতিক_অপরাধ_আদালতে_মিয়ানমার_প্রসঙ্গ_উত্থাপন_করা_উচিত_জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যেইদ রাআদ আল হোসেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের অপরাধযজ্ঞের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক আদালতে উত্থাপন করার জন্য এই সংস্থার সাধারণ পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১০, ২০১৮ ১৫:৩১ Asia/Dhaka

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যেইদ রাআদ আল হোসেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের অপরাধযজ্ঞের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক আদালতে উত্থাপন করার জন্য এই সংস্থার সাধারণ পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানরা ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছে এবং একমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ বিষয়ক আদালতই পারে এ বিষয়ে মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে। জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গণহত্যার বিষয়টি তদন্তের জন্য দেশটির রাখাইন প্রদেশ সফরের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে মুসলিম অধ্যুষিত রাখাই প্রদেশে দেশটির সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি মুসলমান নিহত, আট হাজার আহত এবং প্রায় সাত লাখের বেশি শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।

অবশ্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এর আগেও বহুবার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে তথাকথিত মানবাধিকারের দাবিদাররা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রকাশিত নানা অভিযোগের প্রতি কর্ণপাত করছে না বরং তাদের নীরবতার কারণে মিয়ানমার সরকার বেপরোয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে, আমেরিকার মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম আওয়ারম্যান বিমান বলেছেন, "বর্তমানে পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকার মতো বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে মিয়ানমারের কোনো গুরুত্ব নেই। কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞরা তেলের খনি আবিষ্কারের জন্য মিয়ানমারে অবস্থা করলেও সামগ্রিকভাবে ওই দেশটিতে কারো অর্থনৈতিক সুবিধা না থাকার কারণে মিয়ানমারের বিষয়ে কারো তেমন আগ্রহ নেই। কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষার ব্যাপারেও কারো আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিক বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পরিস্থিতি তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নিতে পারে এবং মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আরাকান ন্যাশনাল সংস্থার প্রধান নুরুল ইসলাম বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তের জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করা উচিত। এখনো মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।"

যাইহোক, জাতিসংঘ রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু তারপরও এ সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো রোহিঙ্গাদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। #        

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০