নার্ভ গ্যাস হামলার অভিযোগ ইরাকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়: রাশিয়া
-
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা
ব্রিটেনে দু’টি নার্ভ গ্যাস হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে দেশটির ওপর ওয়াশিংটন ও লন্ডন যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া বলেছে, ইরাকে আগ্রাসন চালানোর অজুহাত হিসেবে আমেরিকা ও ব্রিটেন গণবিধ্বংসী অস্ত্রের যে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিল তা থেকে ওই দু’টি পশ্চিমা দেশ শিক্ষা নেয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের জন্য আমেরিকা ও ব্রিটেন ইরাকের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ আনা হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে ব্রিটেনের স্যালিবারি শহরে সাবেক রুশ দ্বৈত-গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছর বয়সি মেয়ে ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। কয়েকদিন পর লন্ডন অভিযোগ করে সাবেক সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলে উৎপাদিত নার্ভ গ্যাস দিয়ে রাশিয়াই ওই দুই ব্যক্তিকে হত্যা প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
গত মাসে স্যালিসবারি শহরের কাছে অ্যামেসবারি শহরে একজন ব্রিটিশ নারী ও একজন ব্রিটিশ পুরুষ একই রকম গ্যাস হামলার শিকার হন। এবারের কথিত হামলার জন্যও মস্কোকে দায়ী করে লন্ডন।
রাশিয়া এসব ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ওই গ্যাসের নমুনা মস্কোর কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানালেও লন্ডন তা দিতে অস্বীকার করে আসছে।
এসব কথিত হামলার জন্য আমেরিকা ও ব্রিটেন রাশিয়ার বহু কূটনীতিককে বহিষ্কারের পাশাপাশি মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দেশটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের এ অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
২০০৩ সালে ইঙ্গো-মার্কিন সরকার ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অজুহাতে দেশটিতে আগ্রাসন চালায়। ওই আগ্রাসনে ইরাকের তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের পতন ছাড়াও দেশটিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইঙ্গো-মার্কিন বাহিনী ইরাকে কোনো গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পায়নি।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৬