আনপ্রেডিক্টেবল বলেই সবাই পাকিস্তানকে ভয় পায়: সরফরাজ
-
সরফরাজ আহমেদ
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলেছেন, ‘অনিশ্চিত-আনপ্রেডিক্টেবল বলেই সবাই পাকিস্তানকে ভয় পায়। কারণ দিন শেষে কিন্তু পাকিস্তান ভয়ংকর দল। তাই বিশ্বকাপে আমরা আনপ্রেডিক্টেবলই থাকতে চাই, যেনো বাকিদের উপর এটার প্রভাব পড়ে।’
বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্বকাপে পা রাখার আগে টানা ১০ ওয়ানডে হেরেছে সরফরাজের দল। সব সংস্করণ মিলিয়ে সবশেষ ২৩ ম্যাচের মধ্যে ১৯ ম্যাচে হেরেছে দলটি। এমনকি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও। আবার এখান থেকেও বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে পাকিস্তান। ১৯৯২ বিশ্বকাপে যেভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান।
ব্যাটিং শক্তিতে বলীয়ান উইন্ডিজের বিপক্ষে নামার আগে পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলেন, আমাদের প্রেরণা ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। তখনও আমাদের অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। টুর্নামেন্টের আগে ক্রমাগত হারছিলাম।
দুই বছর আগে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। র্যাংকিংয়ে অষ্টম দল হিসেবে ওই আসরে খেলতে নামে আনপ্রেডিক্টেবল দলটি। ওই টুর্নামেন্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারে পাকিস্তান। এর পর আসরের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় সরফরাজের দল। কিন্তু এর পরও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। প্রথম রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকা, সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
এবারও সেই অবস্থা। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে পাকিস্তান। তবু ট্রফি জয়ের আশায় বেশ আগভাগেই ইংল্যান্ডে পা রেখেছেন সরফরাজরা। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাগতিকদের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন তারা। সবকটিতেই হেরেছে পাকিস্তান (বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়)। তবে ওসব নিয়ে ভাবছেন না সরফরাজ।
তিনি বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, সেসব ভেবে লাভ নেই। ওসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন ছেলেরা। নবোদ্যমে মাঠে নামবেন তারা। ইংল্যান্ডে আমরা প্রায় এক মাস ধরে আছি। আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করি, পাকিস্তানের কাছ থেকে ভালো ক্রিকেট দেখতে পাবেন।’
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংটা ভালোই হয়েছে পাকিস্তানের। ৪ ওয়ানডের ৩টিতে ৩০০’র চেয়ে বেশি দলীয় স্কোর করেন ব্যাটসম্যানরা। সেঞ্চুরি হাঁকান বাবর আজম, ইমাম-উল-হক। টপঅর্ডার ও মিডঅর্ডারের অন্য ব্যাটসম্যানরাও রান পেয়েছেন। সেটাই আশা জাগাচ্ছে সরফরাজকে। তিনি মনে করেন, ব্যাটসম্যানরা নিজেদের স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতে পারলে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বড় স্কোর গড়া সম্ভব।
দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম অবশ্য বাকি দলগুলো তুলনায় পাকিস্তানকে অতটা শক্তিশালী মনে করছেন না। তিনি বলেছেন, ‘যা হয়েছে তা অতীত। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে অনভিজ্ঞ দল হেরেছে। কিন্তু এখন আর কোনো অজুহাত চলে না। তবে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। পাকিস্তান অতটা নয়। সেমিতে উঠতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।’
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।