কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ
-
এ কে আব্দুল মোমেন (বামে) এবং শাহ মাহমুদ কোরেশি(ডানে)
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে মতবিনিময় করেছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কাসেম মোহাম্মদ আব্দুল মোমিনের সঙ্গে টেলিফোনালাপে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে ভারত সরকারের গৃহীত একতরফা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, নয়াদিল্লীর এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের বিপর্যয়কর ও মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, অবরোধের কারণে সেখানে তীব্র খাদ্য ও ওষুধ সংকট চলছে, বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তিনি আরো বলেন, নিরাপত্তা বিধানের নামে ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরে যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে তাতে সেখানকার শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ টেলিফোন সংলাপে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের মাধ্যমে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার যাতে নয়াদিল্লী কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে। পাকিস্তান সরকার চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাশ্মীর বিষয়ে মতবিনিময় করেছে এবং এ ব্যাপারে ওই দেশগুলোর সমর্থন লাভের চেষ্টা করেছে।
ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পাকিস্তান বিষয়টিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও উত্থাপন করেছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কাশ্মীর বিষয়টিকে আন্তর্জাতিকীকরণ করা এবং ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনালাপে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের একতরফা পদক্ষেপের ব্যাপারে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি চেষ্টা চালিয়েছেন।
বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র এবং এর মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ হচ্ছে মুসলমান। এ কারণে দেশটির কর্মকর্তারা কাশ্মীরের মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব ও তাদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে স্পষ্ট নীতি গ্রহণ করবে বলে সকলের প্রত্যাশা। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে আশ্রয় দেয়ায় কাশ্মীরের মুসলমানদের ব্যাপারেও ঢাকা কর্তৃপক্ষ একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করবে এবং তাদের প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫