কারফিউ তুলে নিলে কাশ্মীরে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে: ইমরান খানের হুঁশিয়ারি
-
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে যে অমানবিক কারফিউ জারি করে রাখা হয়েছে তা তুলে নেয়ার পর সেখানে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে।
গতকাল (শুক্রবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় এ কথা বলেছেন তিনি। জম্মু-কাশ্মীরে ভারত কারফিউ জারির মাধ্যমে যে অচলাবস্থা তৈরি করেছে তার নিন্দা করেন ইমরান খান।
গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। ইরানের প্রেস টিভি বলছে, সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্ত থেকে জানা গেছে- গত কয়েক সপ্তাহে ভারতীয় বাহিনী অন্তত চার হাজার কাশ্মীরিকে আটক করেছে।
এ প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের জনসংখ্যা হচ্ছে ৮০ লাখ সেখানে নয় লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েনের কী প্রয়োজন থাকতে পারে? তিনি বলেন, নারী শিশু এবং অসুস্থ লোকজনকে পশুর মত খাঁচা-বন্দী করে রাখা হয়েছে। এরপরই তিনি আশংকা প্রকাশ করেন, কাশ্মীর থেকে কারফিউ তুলে নেয়ার পর সেখানে রক্তগঙ্গা বয়ে যেতে পারে। কাশ্মীর উপত্যকা থেকে ভারতীয় বাহিনীর অমানবিক কারফিউ প্রত্যাহার এবং বন্দীদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান ইমরান খান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের এই অমানবিক কারফিউয়ের কারণে কাশ্মীরের জনগণ অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারে।
পাক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকে সতর্ক করে বলেন, দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ হলে তার পরিণতি সারাবিশ্বকে ভোগ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে তিনি জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহল যদি কাশ্মীর ইস্যুতে ভূমিকা না নেয় তাহলে যেকোনো খারাপ পরিস্থিতির জন্য তাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।
ইমরান খান জাতিসংঘে দেয়া ভাষণ আরো বলেন, “বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে ক্ষুদ্র পাকিস্তান যুদ্ধ করতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যে, আত্মসমর্পণ অথবা স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে- তখন আমরা লড়াইয়ের পথ বেছে নেব এবং যখন একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে তখন তার পরিণতি আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।” তিনি এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দৃশ্যত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কাশ্মীরের জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকারের সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ইমরান খান বারবার সতর্ক করে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ব্যাপারে প্রস্তাব পাস হয়েছিল এবং সে প্রস্তাব জাতিসংঘকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকালের ভাষণে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর ছাড়াও ইসলামফোবিয়া, জলবায়ু, মানি লন্ডারিং এবং কথিত সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের কিছু নেতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।#
পার্সটুডে/এসআইবি/২৮