‘দুর্ঘটনার সূত্র ধরেই পাক সেনাবাহিনীর দুর্নীতির তথ্য ওঠে আসে’
পাকিস্তানে একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম বড় শুদ্ধি অভিযানের শুরু হয়েছিল । পাকিস্তানের কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম আজ(শুক্রবার) এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেও দেশটির সরকার বা সেনাবাহিনী এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করে নি।
এ ছাড়া, প্রাথমিক খবরে ১২ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম এ সংখ্যাকে ১১, আবার কেউ একে ছয় বলে দাবি করছে। অবশ্য দুর্নীতির দায়ে একজন লে জেনারেল এবং একজন মেজর জেনারেলসহ একাধিক বিগ্রেডিয়ার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। চাকরীচ্যুত সবাই পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী ফ্রন্টিয়ার কোর বা এফসি’তে কাজ করেছেন।
২০১৪ সালে এ বাহিনীর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল ইজাজ শাহিদের ছেলের একটি স্পোর্টস কার পরীক্ষার সময় সেনাবাহিনীতে চাকরিরত দুই প্রকৌশলী নিহত হন। নিহতদের একজন ছিলেন লে কর্নেল অপর জন মেজর। পাকিস্তানে বিরাজমান আইন ফাঁকি দিয়ে গাড়িটি যোগাড় করা হয়েছিল। আর এটি মেরামতের দায়িত্ব বর্তিয়েছিল সেনা প্রকৌশলী লে কর্নেল শাকিলের ওপর। কিন্তু দুর্ঘটনায় দুই কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ নিয়ে এফসি সদর দফতর থেকে তদন্ত চালানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে মরার ওপর খাড়ার ঘায়ে মতো তাদের উত্তরাধিকারদের ক্ষতিপূরণের অর্থ না দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এতে দুই পরিবার স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ হয় এবং এ নিয়ে পাক সেনা প্রধানের সচিবালয়ে অভিযোগ জানান তারা। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়। অবশ্য তদন্ত শুরুর আগেই মেজর জেনারেল শাহিদকে সরিয়ে আনা হয়। তদন্তের সূত্র ধরেই কেঁচো খুড়লে এফসি’র দুর্নীতির বিশাল কালসাপ বের হয়ে আসে।
২০০৬ এবং ২০০৭ সাল থেকেই এফসি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং চোরাচালানের জড়িত হওয়ার নানা অভিযোগ উঠলেও বেলুচিস্তানে চলমান সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় নি। এদিকে, পাকিস্তানে নজিরবিহীন ভাবে সেনা কমর্কতাদের বরখাস্ত করাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো।#
মূসা রেজা/২২